
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গফরগাঁও ও তারাকান্দায় দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে ফুলবাড়িয়ায় কর্মরত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক, খাদ্যশস্যের ডিলার ও ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিধি আরও বাড়ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সম্প্রতি চলতি মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অনেক নিউজ হয়েছে, আপনারাও বেশি করে নিউজ করুন। আমি বাংলাদেশের যতগুলো গুদাম আছে, সবগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংগ্রহের কাজ করছি।”
অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “কোনো গুদামই ধোয়া তুলসী পাতা নয়। হালকা-পাতলা সবাই করে থাকে, তাই আমিও সমন্বয় করে চলছি।”
এ ছাড়া ঘুষ ও দুর্নীতির অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, প্রতি মাসে সাংবাদিক ও দলীয় নেতাকর্মীদের ১ থেকে ৪ লাখ টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলেই পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এমনকি ঊর্ধ্বতন মহলকেও ‘ম্যানেজ’ করে চলতে হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য, “ওপর মহল পর্যন্ত আমাদের জ্বালা পোহাতে হয়। এসব টাকা কি আমি বাড়ির জমি বিক্রি করে এনে দেব?”
স্থানীয় কৃষক ও ডিলারদের অভিযোগ, সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়ম ও হয়রানির কারণে তারা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বদলি করেই দায়িত্ব শেষ করা হচ্ছে। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু নিষ্পত্তি হচ্ছে না।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “যত বড় শক্তিশালী দুর্নীতিবাজই হোক, আমরা কাউকে ছাড় দেব না।”
অন্যদিকে, সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু অনুসন্ধান চালানো হলে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে দাবি স্থানীয় ভুক্তভোগীদের।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।
সার্বিক পরিস্থিতিতে ফুলবাড়িয়ার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।