
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ। এ বছর মোট ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জন—দুই ক্ষেত্রেই ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন মেয়েরা। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বোর্ডের অধীন ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের এসব তথ্য জানান বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১৫ হাজার ৬৪৭ জন এবং ছাত্রী ২০ হাজার ৭০৭ জন। অন্যদিকে, মোট ২ হাজার ১৩৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১৮ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ১১৯ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ অর্জনেও ছাত্রদের চেয়ে ১০১ জন এগিয়ে ছাত্রীরা।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বোর্ডের অধীন পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ময়মনসিংহ সিটি কলেজ এবং জামালপুরের ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
অন্যদিকে, ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম সংবাদ সম্মেলনে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ গণিত, হিসাববিজ্ঞান ও ইংরেজি বিষয়ে প্রয়োজনীয় পাস নম্বর অর্জন করতে পারেননি।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪৫ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪২ দশমিক ৭২ শতাংশ। তিন বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে বোর্ডের অধীন চার জেলার মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। শেরপুরে ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং নেত্রকোনায় ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। প্রাপ্ত তথ্যমতে, সবচেয়ে কম পাসের হার নেত্রকোনা জেলায়।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৩১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১১৩টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শাহাদত উল্লাহ, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. আ খ ম কামাল হোসেন, কলেজ পরিদর্শক এস এম আরিফুর রহমানসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।