
মশিউর রহমান সোহাগ নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর পুনরায় সাংগঠনিক তৎপরতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং শহরের রাজপথে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন মোস্তফা কামাল মস্তু, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর আওয়ামী লীগ; মো. কাছন মিয়া, কার্যকরী সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ; মোহাম্মদ খলিল মিয়া, সভাপতি, ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ;রাসেল মিয়া, সাবেক সহ-সভাপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ, ফরহাদ মিয়া, সভাপতি, ১০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ; হেলাল মিয়া, সহসভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ; মোহাম্মদ আজাদ মিয়া, সভাপতি, ১০ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগ; এবং মোহাম্মদ শান্ত মিয়া, সাধারণ সম্পাদক, ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সদস্য, পৌর আওয়ামী লীগ।
স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার দাবি, ৫ আগস্টের আগে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের অনেক নেতাকর্মী এলাকায় প্রবেশ করতে পারেননি। অথচ বর্তমানে অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি এলাকায় পুনরায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এমনকি শহরে প্রকাশ্যেই দলীয় কর্মকাণ্ড ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, বিগত বছরগুলোতে পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। তাঁদের দাবি, বর্তমানে তাঁরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাইরে অবস্থান নেওয়া দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কয়েকটি সূত্র।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতার সঙ্গে মাসিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে যোগাযোগ ও সমঝোতা বজায় রাখার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
অন্যদিকে, মাহমুদুল হক ভূঁইয়া, সাবেক সভাপতি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ, ভিপি হাসানসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ডিসেম্বরের আগেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজপথে সাংগঠনিক অবস্থান তৈরির জন্য সর্বোচ্চ প্রিপারেশন নিচ্ছে, তার জন্য, বারুদ, আগ্নেয়াস্ত্র সহ দেশীয় অস্ত্র মজুদ করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো।