
মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি ব্যয়ের বোঝা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ময়মনসিংহ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬—এক বছরে মোট ৪ হাজার ১৩৫টি বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। এর মধ্যে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ সাইফুল ইসলামের সরাসরি মধ্যস্থতায় ১ হাজার ৪৯৬টি বিরোধের মীমাংসা হয়েছে।মীমাংসা হওয়া এসব বিরোধের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ৮ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা আদায় করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শত কোটি টাকা মূল্যের জমিজমা উদ্ধারে সহায়তা করা হয়েছে।জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সূত্রে জানা যায়, একই সময়ে ৪ হাজার ৫০৬ জনের বেশি নারী ও পুরুষকে বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের আইনগত সহায়তা ও সেবা গ্রহণকারী মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৫২৩ জন।লিগ্যাল এইড অফিস সংশ্লিষ্টরা জানান, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ, আইনগত সহায়তা এবং বিরোধ মীমাংসার সুযোগ রয়েছে। ফলে অর্থের অভাবে যারা আদালতের দ্বারস্থ হতে সংকোচ বোধ করেন বা আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন না, তারাও সরকারি এই সেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।মামলার পরিবর্তে আলোচনায় সমাধান জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হলো বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরি করা। এতে দীর্ঘদিন আদালতে মামলা চলার পরিবর্তে তুলনামূলক দ্রুত সময়ে বিরোধের সমাধান সম্ভব হচ্ছে।এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থের সাশ্রয়ের পাশাপাশি মামলাজনিত হয়রানিও কমছে। বিশেষ করে পারিবারিক, জমিজমা, আর্থিক লেনদেনসহ বিভিন্ন বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এ সেবার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্ব দেন দ্রুত মীমাংসায় সাইফুল ইসলাম ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি সেবা আরও সহজলভ্য করা এবং বিরোধগুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন তিনি।এক বছরে তাঁর মধ্যস্থতায় ১ হাজার ৪৯৬টি বিরোধের মীমাংসা হওয়া এবং এসব বিরোধের মাধ্যমে ৮ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা আদায় করে দেওয়া হয়েছে।‘অর্থের অভাবে কেউ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন না’জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ সাইফুল ইসলাম বলেন, “জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সকল সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। মানুষের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই লিগ্যাল এইড অফিসের মূল লক্ষ্য।”তিনি বলেন, “অর্থের অভাবে কোনো অসহায় মানুষ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। লিগ্যাল এইড অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি আইনগত সহায়তার সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের এক বছরের পরিসংখ্যান বলছে, বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ থেকে শুরু করে বিরোধ মীমাংসা ও আইনগত সহায়তা—বিভিন্ন কার্যক্রমে হাজারো মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। ৪ হাজার ১৩৫টি বিরোধের নিষ্পত্তি, ৫ হাজার ৫২৩ জন উপকারভোগী এবং ৮ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা আদায়ের তথ্য সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের ব্যাপ্তি ও মানুষের অংশগ্রহণের একটি চিত্র তুলে ধরছে।