
আবদুল আউয়াল,কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
ইতালিতে এক মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবারের সবাইকে হারিয়ে দেশে ফিরেছেন একমাত্র বেঁচে যাওয়া সন্তান অয়ন। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজন হারানোর তীব্র শোকের মাঝেই আজ নিজ বাড়িতে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
শনিবার সকালে কোম্পানীগঞ্জের বাড়িতে অয়নকে দেখতে ভিড় জমান আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী। পুরো বাড়ি জুড়ে বিরাজ করছে শোকের মাতম। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অয়ন তার অনুভূতির কথা জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অয়ন বলেন, “আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। যাদের নিয়ে আমার পৃথিবী ছিল, তারা আজ কেউ নেই। আমি ছাড়া পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই—এই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব জানি না।” এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বারবার মূর্ছা যান।
ইতালির সেই ভয়াবহ দিনের কথা স্মরণ করে তিনি আরও জানান যে, ঘটনাটি এতোই আকস্মিক ছিল যে বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। তিনি তার পরিবারের সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং এই দুঃসময়ে যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইতালিতে এক মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় অয়নের পুরো পরিবার নিহত হয়। ওই ঘটনায় ভাগ্যক্রমে কেবল অয়ন বেঁচে যান। ইতালিতে আইনি প্রক্রিয়া ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি দেশে ফেরেন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর দেশের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
অয়নকে সান্ত্বনা দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও তার বাড়িতে ছুটে গেছেন। পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে নিঃস্ব অয়ন এখন মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজনরা এই শোক কাটিয়ে উঠতে তাকে সাহস জোগানোর চেষ্টা করছেন।