
এম হোসাইন আহমদ, বিশেষ প্রতিবেদনঃ যোগাযোগমাধ্যমের যাত্রা
রংপুরের মাটি থেকে যাত্রা শুরু করেছে দেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ফ্রিডার’। ‘নিজেদের কণ্ঠ, নিজেদের প্ল্যাটফর্ম’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে তৈরি অ্যাপটি বাংলাদেশিদের নিজস্ব গল্প, সংবাদ, মতামত ও সৃজনশীলতা প্রকাশের একটি নতুন ডিজিটাল মাধ্যম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।উদ্যোক্তাদের দাবি,ফ্রিডারকে শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশিদের জন্য নিজেদের ভাবনা, অভিজ্ঞতা, সংবাদ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড তুলে ধরার একটি নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তি ও কনটেন্টকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের জন্য সহজ ও স্বতন্ত্র সামাজিক যোগাযোগের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে প্ল্যাটফর্মটির।ফ্রিডারের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আয়ের সুযোগ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত করতে মনিটাইজেশন সুবিধার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, মাত্র এক হাজার ফলোয়ার থেকেই কনটেন্ট নির্মাতারা মনিটাইজেশনের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।এর ফলে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করেও তুলনামূলক কমসংখ্যক অনুসারী নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তরুণ কনটেন্ট নির্মাতা, উদ্যোক্তা, সাংবাদিক, শিল্পী ও সৃজনশীল ব্যক্তিদের জন্য এটি নতুন একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।বিশ্বজুড়ে ফেসবুকসহ আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ব্যাপক জনপ্রিয়তার মধ্যে দেশীয় একটি প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। তবে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা এবং ধারাবাহিকভাবে উন্নত সেবা নিশ্চিত করার ওপরই ফ্রিডারের ভবিষ্যৎ সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে।
রংপুরের মাটি থেকে যাত্রা শুরু করা ‘ফ্রিডার’ শেষ পর্যন্ত কতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি কার্যকর দেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে নিজেদের অবস্থান কতটা শক্ত করতে পারে -এখন সেটিই দেখার বিষয়।