
সুমন ভট্টাচার্য
ময়মনসিংহে স্বামী শফিকুল ইসলাম সপুকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৯ জুলাই) ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি মো. আকরাম হোসেন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান।মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত শফিকুল ইসলাম সপু ময়মনসিংহ নগরীর বাঁশবাড়ী কলোনি এলাকার সুরুজ মিয়ার ছেলে। আসামি আফরোজা শেখ ইতি ছিলেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী।এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১০ জুন প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে আকুয়া হাবুন বেপারী এলাকার বাসায় শফিকুল ইসলামকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আফরোজা। হত্যার পর মরদেহ বাড়ির সামনের পুকুরে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার তিন দিন পর কচুরিপানার ভেতর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা নুরুন্নাহার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আফরোজা শেখ ইতিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে অপর আসামি দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।রায়ের পর মামলার বাদী নুরুন্নাহার অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তিনি ছেলের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আকরাম হোসেন জানান, মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন। তিনি বলেন, আসামি একজন নারী এবং তার সন্তান রয়েছে—এসব বিষয়ও আদালতের বিবেচনায় এসেছে।