
সুমন ভট্টাচার্য
ময়মনসিংহের কোতোয়ালী উপজেলার আলোচিত সোহেল সরকার (২৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ভিকটিমের পালিয়ে যাওয়ার ক্ষোভ থেকেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুলাই সকালে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন সোহেল সরকার। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ২২ জুলাই বিকেলে পরাণগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া এলাকায় অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন বাগান থেকে একটি গলাকাটা অর্ধগলিত মাথা উদ্ধার করা হয়। পরে একই স্থানের পাশের মাটির নিচ থেকে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার হলে পরিবারের সদস্যরা সেটি সোহেল সরকারের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন।এ ঘটনায় নিহতের বাবা নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় কামরুল হাসান পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও কোতোয়ালী মডেল থানার ওসির নির্দেশনায় একটি বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো. সেলিম @ নাপিত সেলিম (৩২)মো. সেলিম (৩০)আব্দুল কাদির @ আলামিন (২৫)
লাল চাঁন @ লালু (২৬)পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা, কোদাল, রক্তমাখা পোশাক ও ভিকটিমের স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশের ভাষ্যমতে, গ্রেফতার হওয়া মো. সেলিম (৩০) স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গত তিন মাস ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলেন সোহেল সরকার। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কৌশলে সোহেলকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে ডেকে এনে সহযোগীদের নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহের মাথা বিচ্ছিন্ন করে মাথা ও দেহ মাটিচাপা দিয়ে গুমের চেষ্টা করা হয়।এসআই (নিরস্ত্র) রিপন চন্দ্র সরকার এর নেতৃত্বে , এএসআই (নিরস্ত্র) সুকান্ত দেবনাথ, এএসআই (নিরস্ত্র) আলী হোসেন ও এএসআই (নিরস্ত্র) মো. মাহবুব আলমের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন,মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।