
মোঃমশিউর রহমান সোহাগ নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসের তীব্র সংকট ও সরবরাহের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানায়ও, যেখানে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাঁচটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড গ্যাস সরবরাহ করে। প্রতিটি স্টেশনের জন্য দৈনিক ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে প্রয়োজনীয় চাপ মিলছে না।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাভাবিকভাবে ১২ থেকে ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। এতে দিনে কয়েকবার মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে এবং যানবাহনে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সরাইলের সোপান ফিলিং স্টেশনের প্রকৌশলী গোলাম রব্বানি বলেন, “গ্যাসের চাপ না থাকায় স্টেশনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। ০ থেকে ২ পিএসআই চাপে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, যা দিয়ে যানবাহনে পর্যাপ্ত গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. ইয়াছিন জানান, দুপুরের আগে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তিনি মাত্র ১৫৫ টাকার গ্যাস নিতে পেরেছেন। আরেক চালক আক্কাস মিয়া বলেন, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও দিনের অর্ধেক সময় গ্যাসের অপেক্ষায় কাটছে। ফলে দিনে দুইটির বেশি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানাগুলোও বিপাকে পড়েছে। ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং কারখানার ব্যবস্থাপক তুষার আহমেদ বলেন, তাদের কারখানায় অন্তত ১৮ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ২ থেকে ৩ পিএসআই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং কেবল বয়লার চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) মো. শফিকুল হক বলেন, এলএনজি সরবরাহে সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, কক্সবাজারে এলএনজি লাইনের ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও ঢাকাসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক রপ্তানি চালানেও বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে গ্যাস সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেনি। ফলে পরিবহন ও শিল্প খাতজুড়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।