
সুমন ভট্টাচার্য
ময়মনসিংহে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জেলা পুলিশের গ্রহণ করা সুপরিকল্পিত ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্বস্তির ঈদ উদযাপন করেছেন নগরবাসী। পুলিশ সুপার কামরুল হাসানের নেতৃত্বে পুরো জেলায় গড়ে তোলা হয় কঠোর নিরাপত্তা বলয়,যা সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।জানা গেছে,জেলার ১৪টি উপজেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। অজ্ঞানপার্টি ও মলমপার্টির মতো অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে মাঠে নামানো হয় একাধিক বিশেষ টিম। বিভাগীয় শহর কোতোয়ালী থানায় ১১টি টিম,মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা টহল টিম দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে। অফিসার ইনচার্জ শিবিরুল ইসলাম নিজেও ঈদের আগের কয়েকদিন মাঠে থেকে সার্বিক তদারকি করেন।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেমন ব্যাংক,অফিস-আদালত ও শপিংমলগুলোতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নারী ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কেটগুলোতে নারী পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ইভটিজিং ও হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
এদিকে মহাসড়কগুলোতে ডাকাতি প্রতিরোধ ও যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেলার প্রবেশপথে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনাল এলাকায় পকেটমার ও অজ্ঞানপার্টির তৎপরতা রোধে সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়।নগরবাসীর কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করতে গভীর রাত পর্যন্ত নৈশ টহল জোরদার রাখা হয়। শপিংমলের সামনে অবৈধ পার্কিং বন্ধে কঠোর অবস্থান নেয় পুলিশ। পাশাপাশি চাঁদাবাজি,ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হয়।জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,“রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষ যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে, নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করতে পারে—সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।”সবমিলিয়ে বলা যায়,ময়মনসিংহে ঈদকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের আন্তরিকতা,পেশাদারিত্ব ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে,যা সাধারণ মানুষের ঈদ আনন্দকে করেছে আরও স্বস্তিময় ও নিরাপদ।