
সুমন ভট্টাচার্য-স্টাফ রিপোর্টার.
উপমহাদেশের প্রখ্যাত বাউল সাধক ও লোকসংগীতশিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই। বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোররাত ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের লোকসংগীত অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।সুনীল কর্মকারের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও শ্রদ্ধার বন্যা বইছে। শিল্পী,সংস্কৃতিকর্মী ও তাঁর অগণিত ভক্ত-অনুরাগীরা গভীর শোক প্রকাশ করছেন।নেত্রকোনায় জন্ম নেওয়া এই কৃতী শিল্পী মাত্র ৭ বছর বয়স থেকেই সংগীতচর্চায় যুক্ত হন। কেবল কণ্ঠ নয়,তিনি বেহালা,দোতারা,তবলা ও হারমোনিয়ামসহ একাধিক বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শী ছিলেন।বিখ্যাত বাউল সাধক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শুনে অনুপ্রাণিত হয়েই সংগীতজগতে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদন করেন সুনীল কর্মকার। ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে তিনি কণ্ঠ ও সুর সংযোজন করেন,যার অনেকগুলোই শ্রোতামহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের বান্দনাল গ্রামের কৃতী সন্তান সুনীল কর্মকার ছিলেন শুদ্ধ বাউল ধারার অন্যতম সাধক।দেহতত্ত্ব,আত্মতত্ত্ব,নিগূঢ়তত্ত্ব ও সৃষ্টিতত্ত্বভিত্তিক বাউল গানে তাঁর অনবদ্য পরিবেশনা হাজারো দর্শক-শ্রোতাকে মুগ্ধ করত।
২০২৪ সালে কেন্দুয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী জালাল মেলায় এই গুণী শিল্পীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সে সময় তাঁর পরিবেশনায় আদি বাউল ধারার পূর্ণরূপ ফুটে ওঠে।লোকজ এই গুণী শিল্পী তাঁর গানের মধ্যদিয়ে ভক্তদের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবেন।সুনীল কর্মকারের মৃত্যুতে সমকাল পরিবার,লোকজ সংগ্রহশালা ও গণপাঠাগার (সাজিউড়া),কেন্দুয়া উপজেলা মিডিয়া ক্লাব এবং কেন্দুয়া ঝংকার শিল্পী গোষ্ঠী গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।ওঁ দিব্যান লোকান সগচ্ছুতে — অনন্তলোকে তিনি শান্তিতে থাকুন।