
সুমন ভট্টাচার্য
বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডকে একটি আয়বর্ধক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব) তাসলিমা কানিজ নাহিদা। তিনি বলেন,কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা সুদৃঢ় করা সময়ের দাবি। এজন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করা হয়েছে। দেশের সব বিভাগে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আঞ্চলিক কর্মচারী হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড,বিভাগীয় কার্যালয় আয়োজিত “সেবা কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভা”তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মহাপরিচালক আরও বলেন,অনেক কর্মচারীই এখনো বোর্ডের কার্যক্রম সম্পর্কে যথাযথ ধারণা রাখেন না। চাকরিতে যোগদানের পর বেতন থেকে কাটা কল্যাণ তহবিল ও যৌথ বিমার অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হয় তা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কর্মচারীদের অধিকার সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে—এ বিষয়টি সকলের জানা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন,রাষ্ট্রে সুশাসন নিশ্চিত করতে কর্মচারীদের কল্যাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কর্মীদের আন্তরিকতা,দক্ষতা ও প্রেরণা বাড়াতে বোর্ডের সেবার পরিধি ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ও আঞ্চলিক কল্যাণ কমিটির সভাপতি ফারাহ শাম্মী,এনডিসি। তিনি বলেন,কর্মচারীদের আর্থসামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কল্যাণ বোর্ড চিকিৎসা অনুদান,শিক্ষা বৃত্তি,কম ভাড়ায় পরিবহন সেবা,স্টাফ বাস পরিচালনা,ক্রীড়া প্রতিযোগিতা,দাফন ভাতা এবং চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তাসহ নানা সেবা দিয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন,জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানবিক সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে কল্যাণ বোর্ড সত্যিকার অর্থেই কর্মচারীদের কল্যাণে নিবেদিত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিনা আক্তার,নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক (উপসচিব) ড. মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভাগীয় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা,কর্মচারী প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক কল্যাণ কমিটির সদস্যরা।