
মোঃ মহিউদ্দিন সরকারঃকেন্দুয়া (নেত্রকোণা)
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় চাঞ্চল্যকর সিএনজি চালক নূর জামান (৩৮) হত্যার ২৪ ঘন্টার মধ্যে মামলার আসামী গ্রেফতার ও মূল রহস্য উদঘাটন করেছে কেন্দুয়া থানা পুলিশ।বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত ৮টা ৫০মিনিটে উপজেলা মিডিয়া সেলে এক প্রেস নোট এর মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেন কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান।
এতে উল্লেখ করা হয়, নুর জামান (৩৮) তাহার সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চালাইয়া জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ১৯ আগস্ট সকাল অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় নিজ বাড়ী হতে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চালানোর জন্য অটোরিক্সাসহ বের হোন তিনি। ২০ আগস্ট রাত অনুমান ০৩:০০ ঘটিকার সময় সংবাদ প্রাপ্ত হয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ কেন্দুয়া থানাধীন চিরাং ইউনিয়নের দুল্লী সাকিনের দুল্লী ব্রিজ এলাকায় গেলে তথায় একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা দেখতে পায় এবং গাড়ীর ড্রাইভারের সিটের নিচে ও সামনে একাধিক স্থানে রক্ত মাখা দাগ লাগানো পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আশেপাশে খোঁজাখুজি করিয়া দুল্লী ব্রিজ হইতে অনুমান ১০০ গজ দক্ষিণ পার্শ্বে আদমপুর-দুল্লী যাওয়ার পাকা রাস্তায় পূর্ব পার্শ্বে মরা বিল হাওরে জনৈক হুমায়ুন চেয়ারম্যান এর পুকুরের কচুরি পানার নিচ হইতে কেন্দুয়া থানা পুলিশ তার মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। তখন মৃতের আত্মীয় স্বজন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মৃত দেহ সনাক্ত করে। পরবর্তীতে মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং ময়না তদন্তের জন্য লাশ আধুনিক সদর হাসপাতাল, নেত্রকোণা মর্গে প্রেরণ করা হয়। উক্ত বিষয়ে মৃতের স্ত্রী বাদী মোছাঃ শিরিন আক্তার (৩২) কেন্দুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করিলে কেন্দুয়া থানার মামলা নং-১৫, তারিখ: ২০/০৮/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করে মামলার তদন্তভার এসআই/(নিরস্ত্র) মোঃ আঃ জলিল এর উপর হস্তান্তর করা হয় । বাদীর ও তার নিকট আত্মীয়দের ধারনা নুর জামান (৩৮) গত ১৯ আগস্ট রাত অনুমান ১০.৩০ ঘটিকা হইতে ইং ২০ আগস্ট রাত্র অনুমান ০৩.০০ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময় অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা উল্লেখিত স্থানে নুর জামান (৩৮) নিয়া তার স্বামীর সিএনজি চালিত অটোরিক্সাটি ছিনাইয় নেওয়ার উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোন কারণে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ধারালো অস্ত্র দ্বারা মাথা সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করিয়া হত্যা করতঃ মৃত্যু নিশ্চিত করিয়া তার স্বামীর মৃতদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে লাশ রেখে যায়। ঘটনা সংঘঠনের পর হতে কেন্দুয়া থানা পুলিশ মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতারের লক্ষ্য পুলিশী কার্যক্রম শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০ আগস্ট বিকাল ৪ ঘটিকায় গোপন সংবাদে ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে সূত্রে উল্লেখিত মামলার সন্ধিগ্ধ আসামী অলি মিয়া (৩০), পিতা- মোঃ আঃ রাজ্জাক, মাতা- ছালেমা, সাং- রাঘবপুর, থানা- কেন্দুয়া, জেলা- নেত্রকোনাকে আটক করা হয়। আসামীকে পুলিশ প্রহরায় ঢাকা বক্ষ্য ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসা জন্য প্রেরণ করা হয়। তথায় চিকিৎসা শেষে আসামীকে পুনরায় থানায় নিয়ে আসা হয়। ঘটনাস্থল হতে খুনের কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।প্রাথমিকভাবে জানা যায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের হতে ধৃত আসামী অপরাপর আসামীদের সহায়তায় উক্ত হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়।পরবর্তীতে উক্ত আসামী বিজ্ঞ আদালতে হত্যার বিষয়ে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ মূলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।