
মোঃ মহিউদ্দিন সরকারঃ প্রতিনিধিঃ কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)
নেত্রকোনার কেন্দুয়ার কৃতিসন্তান,দেশবরেণ্য-লেখক,গবেষক সাহিত্যিক,সমাজ চিন্তক, বাংলা একাডেমি ও স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত অধ্যাপক যতীন সরকার আর নেই।তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ্য থাকার পর বুধবার (১৩ আগষ্ট) বেলা পৌনে ৩ টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি: শ্বাস ত্যাগ করেন।খবর পেয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার কেন্দুয়া প্রেসক্লাব,রিপোর্টার্স ক্লাব ও উপজেলা মিডিয়া ক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে নেত্রকোনা সাতপাই অধ্যাপক যতিন সরকারের বাসভবনে ছুটে যান। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে স্বর্গীয় যতিন সরকারের মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় কেন্দুয়া প্রেসক্লাব,রিপোর্টার্স ক্লাব, উপজেলা মিডিয়া ক্লাবের সাংবাদিকরা ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তাঁর জন্ম কেন্দুয়া উপজেলার চন্দপাড়া গ্রামে ১৯৩৬ সালের ১৮ আগস্ট। তিনি চার দশক ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপনা করেছেন। তিনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’র সাবেক সভাপতি এবং ত্রৈমাসি ‘সমাজ অর্থনীতি ও রাষ্ট্র’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন,তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ” সাহিত্যের কাছে প্রত্যাসা,বাংলাদেশের কবিগান,বাঙালীর সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য,সংস্কৃতির সংগ্রাম,মানবমন মানবধর্ম ও সমাজবিপ্লব,গল্পে গল্পে ব্যাকরণ,দ্বিজাতিতত্ত্ব,নিয়তিবাদ ও বিজ্ঞানচেতনা,সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবি সমাচার,আমাদের চিন্তাচর্চার দিকদিগন্ত,ধর্মতন্ত্রী মৌলবাদের ভূতভবিষ্যৎ,ভাষা- সংস্কৃতি উৎসব নিয়ে ভাবনাচিন্তা,প্রাকৃতজনের জীবনদর্শন,সত্য যে কঠিন, আমার রবীন্দ্র অবলোকন” ইত্যাদি ছাড়াও সম্পাদনা গ্রন্থ- ‘সোনার তরী, প্রসঙ্গ মৌলবাদ,জালাল গীতিকা সমগ্র’।মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনবদ্য আত্মজীবনী- পাকিস্তানের জন্ম মৃত্যু- দর্শন’ ইত্যাদি।তাঁর আত্মজীবনী বইটি প্রথম আলো বর্ষসেরা পুরস্কারে ভূষিত হয়।অধ্যপক যতীন সরকার দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনার সাতপাইস্থ বাণপ্রস্থ নামে বাড়ি নির্মাণ করে ওই বাড়িতেই বসবাস করছিলেন এবং নেত্রকোনা জেলার সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য বিকাশে নিরলস কাজ করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে নেত্রকোনা জেলাব্যাপী শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক,রাজনৈতিক, সাহিত্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংস্কৃতিক কর্মিরা শোকে মুহ্যমান।সূত্রে জানা গেছে,আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় যতীন সরকারের মরদেহ নেত্রকোনার বাণপ্রস্থ বাসায় আনা হয়। রাত ৮ টায় নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বজনের শ্রদ্ধা জানানো হয়। এবং রাত ১১ টায় নেত্রকোনা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।