
শেখ মামুনুর রশীদ মামুনঃ-
রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে এক সেনা সদস্যের লাশ গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় ঝুলে থাকা ছবি দেখে যখন চোখ স্থির হলো না,তখন মনে প্রশ্ন জাগলো—এই লাশ কি কেবল একজন সৈনিকের? নাকি আমাদের জাতীয় সম্মান,শৃঙ্খলা ও ন্যায়বোধের লাশ?
যদি এই ঘটনা সত্য হয়, যদি একজন সৈনিক সত্যিই সহকর্মীদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়ে থাকেন, তবে সেটি কেবল একটি মৃত্যুর খবর নয়, এটি আমাদের সার্বভৌম রাষ্ট্রযন্ত্রের ভিত কেঁপে ওঠার বার্তা।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী—যাদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও জাতীয় দায়িত্ববোধ নিয়ে আমরা গর্ব করি, সেই বাহিনীর ভেতরেই যদি মব ভায়োলেন্স ঘটে থাকে, তবে তা কেবল আইনের শাসনের ব্যর্থতা নয়, এটি রাষ্ট্রের মৌলিক নৈতিকতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আমরা যখন একটি সেনানিবাসকে দেখি, তখন আমরা ভরসা দেখি, রক্ষাকবচ দেখি। কিন্তু এখন যদি ওই কাঁটাতারের আড়ালে অন্যায়ের নয়া কৌশল, গ্রুপিংয়ের রাজনীতি, আর ভবিষ্যত গলা টিপে ধরার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে—তাহলে তা বন্ধ না করে কি আমরা চুপ থাকতে পারি?
এখানে প্রশ্ন উঠে—একজন সৈনিক যদি বাহিনীর মধ্যেই নিরাপদ না থাকেন, তাহলে তিনি সীমান্তে দাঁড়িয়ে জাতিকে রক্ষা করবেন কিভাবে?
আমরা বলি, “আইন সবার জন্য সমান”, কিন্তু এই দেশে কি সেনা ইউনিফর্মের আড়ালে অন্যায় করলে দায়মুক্তি পাওয়া যাবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাওয়ার অধিকার আছে আমাদের।
এই ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত চাই।
এই দেশের প্রতিটি লাশের দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
কারণ আমরা কর দেই, বিশ্বাস দেই, দায়িত্ব দেই। বিনিময়ে চাই ন্যায়বিচার।
সেনা বাহিনী চাইলে নিজেদের থেকে সত্য উদঘাটন করে রাষ্ট্রকে মাথা উঁচু করে রাখতে পারে। নইলে ইতিহাস একদিন বলবে, “গার্ডের গুলিতে পতাকা নামানো হয়েছিল”।
🔹 আইন যদি ন্যায়ের সহায়ক না হয়, তবে সেটি নিপীড়নের অস্ত্র মাত্র।
🔹 গণতন্ত্র যদি প্রশ্ন করতে না দেয়, তবে সেটি নিছক এক অভিনয়।
🔹 আর যদি একজন সৈনিকের মৃত্যু নিয়েও মুখ বন্ধ থাকে, তবে আমাদের চিৎকার করার সময় এসেছে।
আমি প্রশ্ন তুলি—নিরাপত্তা বাহিনীর নিরাপত্তা কোথায়?
আমি প্রতিবাদ করি—সত্যকে লুকিয়ে রাখার সেই গুণ্ডা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।
আমি দাবি করি—জবাবদিহি, ন্যায়বিচার, এবং একটি সেনাবাহিনীর ভেতরের গ্লানিকে দূর করার সাহসিকতা।
কারণ একটাই—আমরা সবাই এই দেশের সন্তান। সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ। আর ন্যায়ের দাবিতে উচ্চকণ্ঠ।