
নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহষ্পতিবার ৮ ই মে ২৫ ভোরে সাভার পৌরসভার মজিদপুর কাঠালবাগান থেকে এক তরুণী ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে জানান তিনি তার পিতাকে খুন করেছেন। তিনি আত্মসমর্পণ করতে চান এবং দ্রুত পুলিশ পাঠানোর জন্য বলেন। খুনের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তার পিতা তাকে চার বছর ধরে ধর্ষন করে আসছিলেন, ২০২২ সালে নাটোরের সিংড়া থানায় বাবার বিরুদ্ধেই ধর্ষণ মামলা করেন তিনি। দীর্ঘ দিন জেলখেটে জামিনে মুক্ত হন তার পিতা, কিন্তু তারপরও ভালো হন নাই। গতরাতে আবার ধর্ষন চেষ্টা করার কারণে তিনি পিতাকে খুন করেছেন।
৯৯৯ থেকে সংবাদ পেয়ে সাভার থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে এবং খুনের অভিযোগে কলার জান্নাতুল জাহান শিফা (২৩) কে গ্রেফতার করে। নিহতের নাম আব্দুস সাত্তার (৫৫)। তিনি নাটোর জেলার সিংড়া থানার ভগা গ্রামের বাসিন্দা। স্ত্রীর মৃত্যুর পর মেয়েকে নিয়ে মজিদপুর কাঠালবাগান এলাকায় একটি বাড়ির ৫ম তলার বাসায় ভাড়া থাকতেন আব্দুস সাত্তার।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাতুল জাহান শিফা জানান, তার বাবা ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। যে কারণে গতকাল বুধবার রাতে খাবারের সময় তার ভাতের মধ্যে ২০টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন।পরে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনাস্থলে যাওয়া সাভার মডেল থানা পুলিশের এসআই ইমরান এ বিষয়ে ৯৯৯ কে নিশ্চিত করেন।
ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক। একজন তরুণী দীর্ঘদিনের অসহনীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত এমন চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
এখানে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়:
* দীর্ঘদিনের নিপীড়ন: তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘ চার বছর ধরে তার পিতার দ্বারা ধর্ষিত হয়েছেন। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তার মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছে, তা সহজেই অনুমেয়। ২০২২ সালে থানায় মামলা করার পরেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া এবং পিতার জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।
* আত্মসমর্পণের কারণ: তরুণীর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আত্মসমর্পণ করার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে তিনি সম্ভবত চরম অসহায়তা ও মান ইজ্জতের বিষয় টি গুরুত্বপূর্ণ।