1. admin@auchsangbad.com : admin :
ময়মনসিংহে অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের চরম অভাব - আউচ সংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কটিয়াদীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মহরম আলী ওরফে মঞ্জুর আলীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক আসামিকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ ভৈরব থানার ওসির বিরুদ্ধে! পাকুন্দিয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে মুক্তিযোদ্ধার উপর হামলা ও বাড়ি ঘর ভাংচুর চৌদ্দগ্রামে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক সেমিনার ও সততা ষ্টোর উদ্বোধন সর্বজনীন পেনশন ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আরসিসি সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শিক্ষক বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহে আলোচনা সভা ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে নানা কর্মসূচি জাপানের কিয়োটোতে 46th SICOT Congress-এ যোগদান শেষে দেশের উদ্দেশ্যে টোকিও ত্যাগ করলেন ডা. এম কামরুজ্জামান মানিক বিএনডিএসের ১ম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ ঘোষণা সভাপতি মোঃ শরীফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শাহনূর কিবরিয়া সুজন হোসেনপুরে বিএমইউজে-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে ১০ লাখ টাকা জরিমানা আইসিটি বিভাগে নিয়োগের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার কোটি টাকা : ‘প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’-এর পকেটে হাজার কোটি টাকা মঙ্গলবাড়িয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপারন্টেনডেন্ট গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে ‘প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ নামের একটি বিতর্কিত সংস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রায় কোট টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তথ্য গোপন করে ঘুষ দিয়ে চাকরি, চাকুরী হওয়ার পর স্বামীকে তালাক ইন্স্যুরেন্সে ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইডিএবি) ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা গাজীপুর জেলা কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনকল্যাণে ব্যাপক উন্নয়ন: আচমিতা ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ১ লাখ ৯ হাজার টাকায় ওমরাহ: ৩৬ যাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের পথে লাব্বাইক হজ্জ্ব সার্ভিসেস ১৪ দিনের প্যাকেজে ভিসা, আপ-ডাউন টিকিট, হোটেল, তিন বেলা খাবার ও পরিবহন সুবিধার দাবি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ আসলামকে বিআইএফের ফুলেল শুভেচ্ছা নিকলীতে শিক্ষিকাকে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ নাঈমের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ লিগ্যাল এইডে এক বছরে ৪১৩৫ বিরোধ নিষ্পত্তি সাইফুল ইসলামের মধ্যস্থতায় মীমাংসা ১,৪৯৬ বিরোধ, আদায় ৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা বীমা খাতের সংস্কার ও গ্রাহক আস্থা পুনর্গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা আইডিআরএ চেয়ারম্যানের ধান সংগ্রহে অনিয়ম: বিরিশিরি এলএসডির কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত ঈশ্বরগঞ্জে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের প্রথম মামলা, গ্রেফতার

ময়মনসিংহে অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের চরম অভাব

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ২৭২ বার পঠিত

শেখ মামুনুর রশীদ মামুনঃ

বড় বড় দালান থেকে ইমারত যাই বলা হোক না কেন সকল কিছুই তৈরি হয় ছোট ছোট ইট থেকে।ছোট ছোট ইট একটি আরেকটির ওপর বসিয়ে তৈরি করা হয় উচ্চ দালান,বহুতল ভবন।যে কোনো ধরনের নির্মাণ স্থাপনা তৈরি করতে ইটের প্রয়োজন।আর এই সকল ইট তৈরি করা হয় ইটের ভাটায়।তবে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ ইটের ভাটার কারণে ফসলি জমি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের দেশে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।তবে এ আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকার কারণে যেখানে সেখানে যত্রতত্র ইটের ভাটা স্থাপন করছে ভাটা মালিকরা।ইটের ভাটাগুলো বিভিন্নভাবে আমাদের বাসযোগ্য পরিবেশের ক্ষতি সাধন করছে।সেই সাথে ইটের ভাটার দূষণে বায়ুতে কার্বন ডাই অক্সাইড ও গ্রিন হাউজ গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে আমাদের জলবায়ুতে প্রভাব ফেলছে।জলবায়ুর পরিবর্তন রোধে প্রথমত ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের বাস্তবায়ন করতে হবে।ময়মনসিংহ সিটি সহ জেলার সবগুলো উপজেলাতেই এসব অবৈধ ইটভাটার বিস্তার দিন দিন বাড়ছে!সরজমিনে দেখা গেছে,দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে,ফসলী জমি দখল করে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,মসজিদ,মন্দির সহ জনবসতি এসব এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ ইটভাটা।  সরেজমিনে আরও দেখা গেছে,জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার গাবতলির বানারপাড়া এলাকা থেকে শুরু করে,গৌরিপুর,ঈশ্বরগঞ্জ, তারাকান্দা,ফুলপুর,দুবাউড়া,হালুয়াঘাট,ফুলবাড়ীয়া,ত্রিশাল, ভালুকা,গফরগাঁও সহ নান্দাইলে অসংখ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এসব অবৈধ ইটভাটা।সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের নজরদারির অভাবের কারণে আইনের তোয়াক্কা না করে চলছে এসব অবৈধ ইটভাটা।ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ ও সংশোধনী-১৯  বলছে,পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা অর্থাৎ জিগজ্যাগ ক্লিন,হাইব্রিড হফম্যান ক্লিন,ভার্টিক্যাল শফট ক্লিন,টানেল ক্লিন বা অনুরূপ উন্নততর কোনো প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। তাছাড়া আবাসিক,জনবসতি,সংরক্ষিত এলাকার বনভুমি ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।এছাড়া সরকারি বনাঞ্চলের সীমারেখা থেকে দুই কিলোমিটার দূরত্বে ইটভাটা স্থাপন করতে হবে।পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন বা লাইসেন্স না নিয়ে ইটভাটা চালু করা যাবে না।আর এ আইন অমান্য করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।আর এসব ইটভাটা তদারকি করার জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বন বিভাগ,স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারির অভাবে সারাদেশের ইটভাটা মালিক এসব আইনের তোয়াক্কা না করে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে দেদারসে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।ফলে এর প্রভাব পড়ছে প্রাক প্রকৃতি,জীব বৈচিত্র্য,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,মসজিদ,মন্দির ও জনস্বাস্থ্যের ওপর।সবচেয়ে বড় আঘাত হানছে আমাদের মৌসুমি জলবায়ুর ওপর।ইটের ভাটায় সাধারণত কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানো হয়ে থাকে।এতে কার্বন ডাই অক্সাইড,কার্বন মনোক্সাইডসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক গ্যাস তৈরি হয়। যা ইটের ভাটার ধোঁয়ার সাথে বায়ুতে মিশে বায়ুকে দূষিত করে।এই বায়ু দূষণের ফলে মানুষের শ্বাসকষ্ট,ফুসফুসে ক্যান্সারসহ নানা রোগ হয়।অবৈধ ইটভাটাগুলোর চিমনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চতায় কম।এতে করে নির্গত হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া।বিষাক্ত ধোঁয়ায় ছেয়ে যাচ্ছে ইটের ভাটার আশপাশের এলাকা,গাছপালা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতি।ফল গাছের ফলমূলসহ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।  ফসলি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।এদিকে জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) ইটভাটাগুলোতে দেওয়ার কারণে জমিগুলো পরিণত হচ্ছে জলাশয়ে।যার কারণে চাষের জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।যে জমি  থেকে মাটি যাচ্ছে তার উর্বরতা তো নষ্ট হচ্ছেই,সঙ্গে পাশের উর্বর জমিগুলোও ভেঙে পড়েছে।ওই পাশের জমির মালিক এক সময় বাধ্য  হয়েই ইটের ভাটার কাছে মাটি বিক্রি করছে।এতে করে কৃষি আবাদি জমির সংকট দেখা দিচ্ছে।আবার ইটভাটার মাটি,ইট,কয়লা,গাছ বহনের জন্য কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর দিয়ে বানানো মালবাহী ট্রাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে বাহন হিসেবে।এতে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছে গ্রামীণ সড়কের।যাতায়াতে ভোগান্তিসহ প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।মালবাহী ট্রাক্টর দিয়ে মাটি নেওয়ার সময় অনেক মাটি রাস্তায় পড়ে যায়।হালকা বৃষ্টি হলে এসব মাটি পিচ্ছিল হয়ে রাস্তা কে পিচ্ছিল করে দুর্ভোগ সৃষ্টি করে মানুষের গাড়ি চলাচলে।অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটে।এছাড়াও আমাদের দেশে বায়ু দূষণের সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে ইট ভাটার দূষণ।ইটের ভাটা দূষণ আমাদের পরিবেশকে বেশ ভালোভাবে প্রভাবিত করছে।অবৈধ ইটের ভাটায় বন উজাড় করে গাছ পোড়ানো হচ্ছে। যার ফলে পরিবেশ থেকে গাছ পালা ও বন জঙ্গলের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।গাছপালা বায়ু থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড  শোষণ করে।বর্তমান সময়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি ইটের ভাটার দূষণ আমাদের মৌসুমি জলবায়ুর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।ইতোমধ্যে আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনাবৃষ্টি দেখা দিয়েছে।গ্রিন হাউস গ্যাস বৃদ্ধি পাচ্ছে যার ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।বাংলাদেশেরও অনেক জেলা শহর হয়েছে যা সমুদ্রের নিচে চলে যেতে পারে।জলবায়ুতে বিরূপ প্রভাব ফেলার কারণে উপকুলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোনসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিবে।তাছাড়া জলবায়ুতে প্রভাব ফেলার কারণে ঋতু চক্রের পরিবর্তন ঘটবে।যার ফলে অতি বৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি দেখা দিবে।যে সকল অঞ্চলে অতি বৃষ্টি হবে সেসব অঞ্চলে বন্যার কারণে চাষাবাদ সম্ভব হবে না।আবার যে সব অঞ্চলে অনাবৃষ্টি দেখা দিবে সেই অঞ্চলগুলোতে খরা দেখা দিবে।সেখানে পানির অভাবে চাষাবাদ হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ আউচ সংবাদ প্রতিদিন
Theme Customized By Shakil IT Park
error: Content is protected !!