
সুমন ভট্টাচার্য ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ-
আগামীকাল (বুধবার) পূণ্যতোয়া খ্যাত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী অষ্টমীর স্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে। স্নান উপলক্ষ্যে কাচারী ঘাটে ব্রহ্মপুত্র তীরে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় প্রশাসন ও স্নান উৎসব কমিটি। ইতোমধ্যে হাজারো পূণ্যার্থী ব্রহ্মপুত্র তীরে উপস্থিত হতে শুরু করেছেন। নগরীর দূর্গাড়ী মন্দির এলাকায় বুধবার ভোর চারটা থেকে শুরু হয়ে ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত স্নানের উত্তম লগ্ন ধার্য করা হয়েছে। তবে দিনব্যাপী স্নান চলবে।প্রায় ৪ শত বছর ধরে প্রতিবছর চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে এ পূণ্যস্নান সম্পন্ন করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। ব্রহ্মপুত্রের এ স্থানটিকে তারা তীর্থ স্থান হিসেবে বিবেচনা করেন। হিন্দু ধর্ম মতে, এটি একটি পূণ্য কর্ম এবং এই স্নানের মাধ্যমে তাদের পাপ মোচন ঘটে। এই পাপ মোচনের অভিপ্রায়ে লাখো পূণ্যার্থী সমবেত হন ব্রহ্মপুত্র তীরে।প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও স্নান উদযাপনে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে ব্রহ্মপুত্র তীরে পূণ্যার্থীরা আসতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে হাজার হাজার পূণ্যার্থী স্নান ঘাটের আশে পাশে অবস্থান নিয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতভিটায় তাদের আশ্রয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্নান উপলক্ষ্যে ঘাট এলাকায় দিনব্যাপী মেলার আয়োজন থাকবে। এছাড়াও ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।স্নান উৎসব কমিটির দেওয়া তথ্য মতে, অষ্টমী স্নান উপলক্ষ্যে কাচারি ঘাটে ব্রহ্মপুত্র তীরে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পূণ্যর্থীদের বিচরণ হয়। লগ্ন অনুযায়ী নিজেদের সুবিধাজনক সময়ে ধর্মীয় এ স্নান সেরে নেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। স্নান উৎসব নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি স্নান ও মেলা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দুর-দূরান্ত থেকে আসা পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, ও আনসার সদস্য ছাড়াও সেচ্ছাসেবী মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।প্রায় এক যুগেরও পর এবছর বুধবার স্নান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি পূণ্যার্থীদের জন্য পবিত্র দিন বলে জানিয়েছে স্নান উৎসব কমিটি।সিটি কর্পোরেশন এর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি সহ স্থানীয় এছাড়াও স্নান ঘাট এলকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূণ্যার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।হিন্দুধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নান প্রতিবছরের ন্যায় এবারো ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ কর’ মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে পুন্যার্থীরা ব্রহ্মপুত্র পর বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিস্থিতি দেখতে সরেজমিনে পরিশর্দন করেন মসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সচিব অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ মহাবুল হোসেন রাজীব, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আজাহারুল হক, খাদ্য ও স্যানিটেশন কর্মকর্তা দীপক মজুমদার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা মোঃ মোহাব্বত আলী সহ প্রমূখ।