
শাফায়েত নূরুল
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে এক গৃহবধূকে যৌতুকের টাকার দাবিতে শ্বশুরবাড়ি লোকজন হাত পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এলাকায়। কিন্তু ১৯ দিন অতিবাহিত হলেও মামলা নিচ্ছে না নিকলী থানার পুলিশ। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায় যে,দুই বছর পূর্বে নিকলী উপজেলা সদর ইউনিয়নের অফিস পাড়া গ্রামের নবী মিয়ার ছেলে মোঃ হোসাইন (২৬) এর সাথে নিকলী মীরহাটি গ্রামের মোঃ আক্কাছ আলীর মেয়ে মাহিনূর (২০) বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করা হয়। তবে বিয়ের কিছু দিন না যেতেই যৌতুকের টাকা জন্য মাহিনূরকে শিকার হতে স্বামী সহ শশুর বাড়ির লোকজনের অমানবিক নির্যাতনে।পরিস্থিতি দিনের পর দিন খারাপের দিকে যেতে থাকায়। এ বিষয়ে আক্কাছ আলী জানান, আমার মেয়ে মাহিনূরকে তার স্বামী হোসাইন সহ তার বাড়ির সবাই বিভিন্নভাবে তাকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে যাচ্ছে। তাদের দাবি যৌতুক হিসেবে মোটা অংকের টাকা। এছাড়াও আমার মেয়েকে নানান রকম কথায় কথায় বিভিন্ন কটূ কথা শুনতে হয়। যার কারণে আমার মেয়ে দিন দিন মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।তিনি আরও বলেন, তার মেয়ে মাহিনূর কে স্বামী প্রায় প্রতিদিনই মারধরসহ গালিগালাজ আজেবাজে কথা বলে। বাবার বাড়ি থেকে টাকা না এনে দিলে তাকে আরও মারধর করা হবে বলেও হুমকিধামকি দেওয়া হয় ।এ বিষয়ে গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা দুই পরিবারকে সালিসি বিচারের মাধ্যমে সব বিষয়ে মীমাংসা করতে বসে। একপর্যায়ে ব্যর্থ হয়, ঘটনা দিন গত ২৩ ফ্রেরুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে সাধারণ ঘটনা কে কেন্দ্র করে স্বামী হোসাইন মাহিনূরকে হাত পা বেঁধে আবারো যৌতুকের টাকার জন্য বডি দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করলে বাড়ির পার্শ্ববর্তী লোকজন এসে উদ্ধার করে। তারপর শ্বশুরবাড়ি থেকে থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে মাহিনূরের বাবা মোঃ আক্কাছ আলী গত (২৩ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার রাতে নিকলী থানায় হোসাইনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ দেওয়ার পর ১৯ দিন অতিবাহিত হলেও মামলা নিচ্ছে না নিকলী থানার পুলিশ, এবং মামলার বাদী সূত্রে জানা যায়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জুবায়ের জানান, অভিযোগ পেয়েছি, আইনগত ব্যবস্থা নিবো বলে তিনি জানান। নিকলী থানার ওসি মোহাম্মদ মনসুর আলী আরিফ এই বিষয় প্রশ্ন করলে এই ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিবে বলে উল্লেখ করেন।