
” ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেট-আপ অতিরিক্ত ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী মোঃ মোবারক হোসেনের হাতে আলাদীনের চেরাগ
স্বপন মাহমুদ ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩য় শ্রেনীর কর্মচারী মোবারক কের ২ টি বিলাস বহুল বাড়ি একাধিক জমির প্লট ও ফ্লাট লাখ লাখ টাকার ব্যাংক এফডিআর বোর্ডর ছা-পোষা কেরানি সিবিএ’ কার্যকরী সভাপতি মোঃ মোবারক হোসেনের সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সহ সকল কর্মকর্তা- কর্মচারী। কী এমন আলাদিনের চেরাগের দৈত্যকে তার হাতে, ভাবতে অবাক লাগে। তার পৈতৃক নিবাস গোপালগঞ্জে র মোকসেদপুর হওয়ার সুবাদে প্রধানমন্ত্রীর নিকটস্থ বলে দাবি করে এবং প্রভাব প্রতিবিস্তার করে এক হাতে করে চালিয়ে যাচ্ছে তার অবৈধ কর্মকান্ড। তার ইশারার বাইরে যেতে পারে না এবং কোন কাজ অফিসে করা সম্ভব হয় না। গত ২৪/১০/২০২২ ইং তারিখে নিঃ প্রকৌঃ স্মারক নং-ই-১/৩০৪৫(৮) ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নতুন লাইসেন্স দেওয়া সহ গত বছরের লাইসেন্স গুলো নবায়নের সুযোগ দিলে নতুন ১২ টি সহ মোট ২৪০টি লাইসেন্স এন লিস্টটেড হয়। এই প্রতিটি লাইসেন্স এ সরকার নির্ধারিত ফি থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার জন্য।, নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাক্ষরিত চিঠিকে উপেক্ষা করে, প্রাক্কলনিক সেলিম রেজা কাছ থেকে জোরপূর্বক সাধারণত শাখায় লাইসেন্স নবায়নের কাজ করে এবং অতিরিক্ত টাকা আদায় করে এই মোবারক।
মোবারক হোসেন সেটআপ অতিরিক্ত অফিস সহকারী হওয়ার ফলে, অফিসের কোন কাজে থানা বা জেলার বাহিরে যাওয়া লাগে না কিন্তু বাহিরে যাওয়ার ভ্রমণ ভাতা থেকে প্রতিমাসে কমপক্ষে ২৫২০/- অবৈধ ভ্রমণ বিল দিতে বাধ্য থাকে নির্বাহী প্রকৌশলী।এর ফলে প্রকৃত ফিল্ডস্টাফরা নিজের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন ও চোখের পানি ফেলে কোন বিচার পান না।
প্রতিটি ঠিকাদারি বিল তার নির্দেশে ১% হারে টাকা আদায় হয়ে জমা হয় মোবারকের ফান্ডে। বাপাউবো অধিগ্রহণকৃত জমি বা জলাশয় লীজ দেওয়া বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত দেয় এই মোবারক সিন্ডিকেট।
বহিরাগত রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে অফিসে চালায় টেন্ডারবাজী। উল্লেখ্য সবশেষ ২০২২-২৩ নিঃপ্রকৌঃ দপ্তর স্মারক নং- এস-৩/২৯২৫ তারিখ ২৫/০৮/২০২২ উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে একটা গাছের টেন্ডারের আহ্বান হয় এবং ২৬ টি দরপত্র বিক্রয় হয় কিন্তু এই মোবারক ও তার সহযোগীরা রাতের আধারে ২৬ টি দরপত্র একত্রে করে নেকুজেশনের মাধ্যমে গাছের বুক ভেলুর থেকে মাত্র ৫ হাজার টাকা বেশি দর কাজ পাওয়ে দেয় এই মোবারক। ১৬ লক্ষ টাকা মূল্যের সরকারি গাছ মাত্র ৯,৮৭,০০০/- টাকা হাতিয়ে নেয় এই মোবারক। এতে সরকারি ৬,০০,০০/- ক্ষতি হয়। মোবারকের বর্তমান ঠিকাদারি চিত্র খুজতে গিয়ে পাওয়া যায়, সে নামে বেনামে টেন্ডার বাণিজ্য। গত জুন/২২ শে খুলনা ওমর এন্টারপ্রাইজ ২টি কাজ নির্বাহী প্রকৌশলী কে জিম্মি করে বাগিয়ে নেয়। যার আইডি নং-৬৮০৭০৭ ও ৬৮১৩৯৫ খাল খনন ও গাছের টেন্ডারের।
এর পর ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন ডি-৭-এন নামে ২,৫০,০০০০০ /- কোটি টাকা মুল্যের একটি কাজ ‘ইউনুস এন্ড র্ব্রাদাস’ নামের একটি লাইসেন্স এ। সাইন বোর্ড হিসাবে ব্যবহার করে রইচ ঠিকাদারকে।
আবার গত ১৭/১০/২২ ইং তারিখে ‘আবুল কালাম আজাদ ‘ নামের একটি লাইসেন্স ব্যবহার করে লুঠে নিয়েছে দুটি গাছ রোপনের কাজ। যার টেন্ডার আইডি নং- ৭২৮৭১৬ ও ৭২৮৭১৭। ঝিনাইদহ শহরের হাসান ক্লিনিকের সামনে ভাংড়ী ব্যবসায়িক কালু ও আমিরুলের ব্যবসায়ে সুদে টাকা লাগানো আছে ১০,০০,০০০/- ও ১৫,০০,০০০/- লক্ষ টাকা যথাক্রমে। মোবারক এই সব সুদ, ঘুষের ও টেন্ডার বাণিজ্যের টাকা দিয়ে গড়ে তুলেছে ঝিনাইদহ শহরের প্রাণকেন্দ্র উপ-শহর পাড়াতে ৭ শতক জমির উপর বিলাস বহুল চার ইউনিটের দ্বিতল ভবন। যার পৌর হোল্ডিং নং-০৮/১০,বাসা নং-০৮, রোড নম্বর -০৫০/ঠ। এই জমি সহ বাড়ির আনুমানিক মুল্য ১,৫০,০০,০০০/- কোটি টাকা। এছাড়া ঝিনাইদহের চাকলা পাড়াতে রেয়েছে আরেকটি দ্বিতল ভবন।
ঝিনাইদহ শহর ও শহরতলীতে রয়েছে একাধিক জমির প্লট। উল্লেখ ঝিনাইদহ শহরে পাগলা কানাই সড়কে কোরাপাড়া মৌজার জি, এল নং-১২৭
দাগ নং-০১, ০২, ০৩ তে রয়েছে ১০ শতাংশ জমি। যার বর্তমান বাজার মুল্যে ৬০,০০,০০০/- লক্ষ টাকা। এছাড়া ঝিনাইদহ শহরের আদর্শপাড়া ও থানা পাড়াতে রয়েছে একাধিক জমির প্লট।
গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর উপজেলায় রয়েছে তার ১৩ বিঘা ফসলের জমি। যার আনুমানিক বাজার মুল্য ৬৫,০০,০০০/- লক্ষ টাকা।
অফিসের যে বেতন পান তার চার ভাগের এক ভাগ জমা জিপিএপ ফান্ড। বর্তমান তার বাপাউবো ‘র জিপিএফ হিসাব নং – ২৬৪৯১ জমা হয়েছে ১২,৭২,০০০/- টাকা।
এবি ব্যাংক, ঝিনাইদহ শাখায় এফডিআর করেছে ৫,০০,০০০/- টাকা। উত্তরা ব্যাংক, ঝিনাইদহ শাখায় রয়েছে একাউন্ট এছাড়া প্রতিমাসে ডিপিএস জমা হয়, ব্র্যাক ব্যাংক, ঝিনাইদহ শাখায়। বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, তার একমাত্র মেয়ে মাইশা কে ঢাকাতে ভর্তি করার ফলে আজিমপুর সরকারি কর্মচারী আবাসিক ভবনে ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যের একটা ফ্লাট পাওয়া আবেদন করেছে এবং পাওয়ার জন্য জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছে।
# মোবারক তার অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনা জন্য তৈরি করে ছিল নিজস্ব গুন্ডা বাহিনী। এই গুন্ডা বাহিনীকে দিয়ে প্রকাশে মৃত. মোমিনের ছেলে নিজ বাড়ির সামনে উঠিয়ে নিয়ে এসে মারধর করে কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পায়নি। মোবারক নিজ অফিসের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জনাব, মোঃ ফজলুল আবেদিন কে তার বাবার একটা ফাইলে অবৈধ সই করানো জন্য অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং সই না করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল লতিফ মহোদ্বয়ে সময় জমির লীজ দেওয়াকে কেন্দ্র করে, কার্য সহকারী মোঃ বজলুর রহমানকে অফিসের সাধারণ শাখায় সবার সামনে চেয়ার দিয়ে মেরে লাঞ্ছিত করে। এমন বাজে পরিস্থিতিতে মোবারককে খুলনা বদলী করে বোর্ড কিন্তুু তার অবৈধ টাকা জোর আবার ফিরে ঝিনাইদহে। এভাবে অসংখ্য কর্মকর্তা কর্মচারী তার হাতে প্রতিনিয়ত লাঞ্চিত হয় কিন্তুু কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাইনা। এভাবে দেশ চলতে থাকলে সরকারের উন্নয়ন মুখী বাজেট মোবারক নামক হাঙরের পেটে। এই বিষয়ে অভিযুক্ত মোবারকের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে বার ফোন করলে মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এ-ই দুর্নীতির শেষ কোথায়।