
আফজালুর রহমান উজ্জ্বল স্টাফ রিপোর্টার
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকট বিরাজ করছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও সীমিত জনবল নিয়েই দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতায় সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে যেকোনো সময় সেবার মান ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উপজেলা বাসি।
অফিস সূত্রে জানা যায়,প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে ১ জন,সার্টিফিকেট সহকারী ১ জন,জারীকারক ২ জন,নৈশ্য প্রহরী ২ জন,এবং দপ্তরী ১ জন পদ প্রায় এক বছর ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়াও উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা ২ জন এবং অফিস সহকারী ২ জন পদ গত এক মাস ধরে খালি পড়ে আছে।
এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও কর্মরত জনবল বাড়তি চাপ সামলে সেবা কার্যক্রম সচল রেখেছেন।প্রতিদিন অসংখ্য সেবা প্রত্যাশী মানুষের ভিড় সামলাতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হলেও দায়িত্বে কোনো অবহেলা দেখা যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের বাইরেও কাজ করে সাধারণ মানুষকে সেবা দিচ্ছেন তারা,যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
তবে বাস্তবতা হলো, এই সীমিত জনবল দিয়ে দীর্ঘদিন সেবা কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র প্রস্তুত, আবেদন নিষ্পত্তি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিলম্বের ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে ভুক্তভোগীদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষও তৈরি হচ্ছে।সেবা নিতে আসা কয়েকজন জানান,কর্মকর্তারা আন্তরিক, কিন্তু লোকবল কম থাকায় অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। দ্রুত জনবল বাড়ানো জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন,জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যেন সেবার মান ঠিক থাকে। যারা দায়িত্বে আছেন তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে সেবার মান ধরে রাখতে শূন্য পদগুলো পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এখনই প্রয়োজনীয় পদগুলোতে নিয়োগ না দিলে ভবিষ্যতে সেবার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই জনসেবার স্বার্থে দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।উপজেলাবাসীর প্রত্যাশা, কাঙ্খিত এই সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ যেন গ্রহণ করেন ।