
শেখ মামুনুর রশীদ মামুনঃ
ময়মনসিংহ শহরে অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসনের চলমান কঠোর তৎপরতার অংশ হিসেবে কোতোয়ালী মডেল থানার অধীন ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর কমর উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চৌকস পুলিশ দল ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তিনজন পেশাদার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে।
গত ৬ ও ৭ জুলাই, রবিবার ও সোমবার রাতে শহরের কৃষ্টপুর ও পুরাতন মেডিকেল গেট সংলগ্ন এলাকা—যা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও ছিনতাইয়ের ‘ক্রাইম জোন’ হিসেবে পরিচিত—সেখানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো— ১. হৃদয় (২১), পিতা: অপু দাস, সাং: পুরোহিতপাড়া
২. জয় (২০), পিতা: গনেশ, সাং: বড় কালীবাড়ি
৩. শহীদ (৩৪), পিতা: নব আলী, সাং: গুলুকপুর, থানা: গৌরীপুর। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে রাতে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর কমর উদ্দিন ও তাঁর সঙ্গীয় পুলিশ দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাদের ঘেরাও করে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির বিষয়টি স্বীকার করে জানায়, তারা পেশাদার ছিনতাইকারী এবং এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাই মামলা রয়েছে।
ইন্সপেক্টর কমর উদ্দিনের নেতৃত্বে ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ি ইতোমধ্যেই শহরের যৌনপল্লী, কৃষ্টপুর, ও পুরাতন মেডিকেল গেট এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, চোর ও ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও, অবৈধ ভেজাল মিশ্রিত মদ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ধারাবাহিকভাবে অভিযান চলছে। ফাঁড়ি এলাকার ছোট বাজার, বড় বাজার, স্বদেশী বাজার রোড, ওল্ড পুলিশ ক্লাব রোড, ট্রাংকপট্টি রোড, স্টেশন রোড, গাঙ্গিনারপাড়, দুর্গাবাড়ী রোড এবং ইসলামী ব্যাংক ও গোল্ড মার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ বিষয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর কমর উদ্দিন বলেন,> “অপরাধী যেই হোক, কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অটল। তবে আমাদের সফলতার জন্য প্রয়োজন সাধারণ মানুষের তথ্য ও সহযোগিতা। আপনাদের সহায়তা পেলে আমরা আরও বেশি অপরাধী গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।”পুলিশের এই সাফল্যকে জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম ও কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের তদারকি ও দিকনির্দেশনার বাস্তব ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এলাকাবাসীর মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের এই নিরলস প্রয়াসে শহরে নিরাপত্তা ও স্বস্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে।