
মোঃ মহিউদ্দিন সরকারঃকেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে থানায়।
বৃহস্পতিবার (৩জুলাই) উপজেলার রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের রোয়াইলবাড়ি গ্রামের শাহাবুদ্দিন (ভুক্তভোগীর বাবা) আশরাফুল হক পূর্ণ (২০)কে আসামী করে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৫।
মামলা মারফত জানা যায়, একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী নিলাম্বরখিলা গ্রামের আরজু মেম্বারের ছেলে
আশরাফুল হক পূর্ণ এর সাথে শাহাবুদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের (১৭) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এক (১) বছর যাবত। তারা দুজন একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও কোচিং সেন্টারে পড়তো। পূর্ণ আলিম (এইচএসসি) ও সুমাইয়া দাখিল (এসএসসি) শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলো।তাদের চলাফেরা ও প্রেমের সম্পর্ক এলাকায় অনেকেই জানতেন। গত শনিবার (৭জুন) দিবাগত রাত ৯টায় বিয়ের প্রলোভনে শাহাবুদ্দিনের মেয়ে গোপনে তার নিজ বাড়িতে পড়ার রুমে ধর্ষণের শিকার হয়। এরপর গত রবিবার (২৯জুন) অনুমান সকাল ১০টায় রোয়াইলবাড়ি বাজারে পূর্ণ প্রেম ও বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পূর্ণ সুমাইয়াকে চড় থাপ্পড় ও কিল-ঘুষিতে মারধর করে। পরে সুমাইয়া বাড়ি ফিরে দুঃখে, রাগে ও অভিমানে কীটনাশক বিষ পান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত মঙ্গলবার (১জুলাই) ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথিমধ্যে গাজীপুরের স্কয়ার মাস্টার বাড়ি পৌঁছাতেই অনুমান সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সুমাইয়া মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, বিষ পানের কারণ ও বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক বা ধর্ষণের শিকারের বিষয়টি ভুক্তভোগী সুমাইয়া নিজের মুখে বলে গেছে তার মায়ের কাছে।এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান মুঠোফোনে জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রজু হয়েছে। আসামি গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।