
সঞ্জিত চন্দ্র শীল-হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে নিয়ে অপহরণে জড়িতরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ একটি বিশেষ মহলের চাপে তাদের গ্রেফতার করেছেন না বলে অভিযোগ ওঠেছে। ফলে ওই মামলার আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে মামলা তুলে নিতে এখন বাদীকেই হত্যাসহ নানা ধরনের হুমকি ও ধমকি দিয়ে বেড়াচ্ছ। এতে বাদীর পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। তাই ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে জরুরী প্রতিকার দাবি করেছেন।
মামলার বিবরণ ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের দক্ষিণ পুমদী গ্রামের জালাল মিয়া ও বিলকিস আক্তার দম্পতির মেয়ে লামিয়া আক্তার (১৪) উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ডাহরা গোল পুকুর পাড় মাদ্রাসায় নবম শ্রেণীর ছাত্রী। প্রতিদিনের মতো লামিয়া মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে হোসেনপুর -কিশোরগঞ্জ সড়কের ডাহরা এলাকা থেকে গত ২৬ এপ্রিল উপজেলার চর কাটিহারী গ্রামের আপন মিয়ার ছেলে মোঃ ফুয়াদ মিয়া(১৯)গংয়ের দ্বারা অপহৃত হয়ে অদ্যাবধি নিখোঁজ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে অপহৃত লামিয়ার মা বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে গত ০১ মে হোসেনপুর থানায় এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন, উপজেলার চরকাটিহারী গ্রামের ফোয়াদ মিয়া(১৯), উপজেলার দক্ষিণ পুমদী গ্রামের লাল মিয়া(৪০), লাইলি আক্তার(৩৬) ও তানিম মিয়া(১৮)। কিন্তু মামলা দায়ের করার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও আসামি গ্রেফতারে কোনো কার্যকরী উদ্যোগ না থাকায় ওই আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় আসামিরা অধরা রয়েছে।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রী লামিয়ার মাতা বিলকিস আক্তার জানান,”আমার মেয়ে মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার পথে বখাটে ফোয়াদ মিয়া প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো।এ নিয়ে বহুবার এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে নিষেধ করা সত্ত্বেও ফোয়াদ ক্ষ্যান্ত হয়নি।তার নিকট আত্মীয় স্বজনদের কাছে বিচার দিলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।আর এসব কারণে ফোয়াদ তার দলবল নিয়ে গত ২৪ এপ্রিল মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে আমার নাবালিকা মেয়েকে জোড় পূর্বক সিএনজিতে তুলে নিয়ে অপহরণ করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করছে। এ ঘটনায় আমি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও ন্যায় বিচার চাই।”
এদিকে অপহৃত লামিয়ার পিতা জালাল মিয়া জানান, আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হত্যার হুমকিসহ নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলেছে। এতে পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। তাই ন্যায় বিচার পেতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
ডাহরা গোল পুকুর পাড় আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল কাইয়ূম জানান, লামিয়া ওই মাদ্রাসার নিয়মিত ও মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলো। এ ঘটনায় তিনিসহ অন্যান্য শিক্ষকেরাও এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।এ ব্যাপারে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মারুফ হোসেন জানান, মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। আশা করছি তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।