
সুমন ভট্টাচার্য-ময়মনসিংহ(শনিবার,২১ ফেব্রুয়ারি)
ময়মনসিংহে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে।দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন,ভাষা আন্দোলন না হলে আমরা ২৪-এর জুলাই আগস্ট আন্দোলনও পেতাম না।ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের যে ঋণ আমরা বহন করছি,তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই বিজাতীয় সংস্কৃতির অপসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।তিনি বলেন,দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।ভাষা নিয়ে যারা গবেষণা ও কাজ করেন,তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী এনডিসি বলেন,“রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই”ছিল শুধু ভাষার দাবি নয়,এটি ছিল অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ এবং মাতৃভাষায় কথা বলার মৌলিক অধিকার রক্ষার সংগ্রাম। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কোনো সাধারণ তারিখ নয়,এটি বাঙালি জাতির চেতনার উৎস।এই আন্দোলন আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এবং অধিকার আদায়ে দৃঢ় হতে শিখিয়েছে,যার ধারাবাহিকতায় আমরা অর্জন করেছি মহান স্বাধীনতা। তিনি আরও বলেন,শুধু বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গেই নয়,ইউনেসকোর স্বীকৃতি’র মাধ্যমে দিনটি আজ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।তিনি সকলকে নিজ নিজ মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন,ভাষার ঐতিহ্যকে ভালোবাসতে হবে এবং পৃথিবীর কোনো ভাষা যেন বিলুপ্ত না হয় সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।একই সঙ্গে অন্যের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়,সে লক্ষ্য নিয়ে মাতৃভাষাকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান তিনি। এ সময় তিনি সকল ভাষা শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আবু বকর সিদ্দীক ও পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান। আলোচনা শেষে দেশাত্মবোধক গান,আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাংকন
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী,বীর মুক্তিযোদ্ধা,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব,অভিভাবক এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসার আবহ সৃষ্টি হয়।