
ছাদেকুর রহমান রতন (তাড়াইল কিশোরগঞ্জ)
তাড়াইল উপজেলা সদর প্রাণকেন্দ্র তাড়াইল বাজারে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কাঁচারি পুকুরটি চরম দখল, বেখল ও দূষণের শিকার হয়েছে। উপজেলা সদরে এক সময়ের নান্দনিক ও ঐতিহাসিক কাচারি পুকুরটির চারপাশে দেখা যায় ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। হোটেলের বর্জ্য,দোকানের ময়লাযু্ক্ত পলিথিন,পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বিভিন্ন প্রসাধনী,কয়লা,ছাই এবং নোংরা আবর্জনায় ভরে গেছে পুকুরের চারপাশ।তাড়াইল বাজারের কিছু অসচেতন মানুষ পুকুরঘাটে ময়লা আবর্জনা ফেলে স্তুপের সৃষ্টি করে এর উপর প্রকাশ্যে প্রস্রাব করতেও দেখা যায়। পুকুরের পূর্বপাড়ে টয়লেট তৈরি করে পাইপের মাধ্যমে করেছে সংযুক্ত। পাশাপাশি পাড় দখল করে যা তা পরিবেশের সৃষ্টি করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ফলে দূষণের ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব পড়ছে। একদিকে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য, অন্যদিকে নষ্ট হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পুকুরের পানি সাধারণ মানুষও পড়ছে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।তাড়াইল সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে জানা যায়, তাড়াইল বাজার কাঁচারি পুকুরটির বর্তমাণ দাগ নং ২৬৩৯, যার জমির পরিমান ১: ৬৭ একর। পূর্বেকার তালজাংগার জমিদার রাজ চন্দ্র রায় বাড়ির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এই কাচারি পুকুর। পুকুরের পশ্চিমে বর্তমান ভূমি অফিসের সামনের পাড়ে এখনও দেখা যায় শানবাঁধানো পুরনো ঘাট আর এই স্থাপনাই ভগ্নাবশেষ যা অতীত ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী।আরও জানা যায়,কাঁচারি পুকুরের পাশেই ছিল একটি দাতব্য চিকিৎসালয়,যেখানে জমিদাররা অত্রাঞ্চলের সাধারণ প্রজাদের চিকিৎসাসেবা দিতেন কবিরাজগণ। কালের পরিক্রমায় সেই গৌরব আজ শুধুই ইতিহাস। বর্ষা মৌসুমে পানিতে দুর্গন্ধ ভরে যায় চারপাশ আর মশার উপদ্রব তো বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এতে করে আশপাশের ব্যবসায়ী,পুকুরের চারপাশে গড়ে ওঠা আবাসিক বাসাবাড়িতে বসবাসকারীরাও পড়ছে চরম দুর্ভোগে। বর্তমানে পুকুরের কিছু অংশের কাছে দাঁড়ানোই যায় না দুর্গন্ধে। দ্রুত সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।তাড়াইল বাজারের ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল মনে করে পুকুরটি তিনটি পাকা ঘাট তৈরি ও পুকুরের তিন দিকে লেকসিটি সহ সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হলে কাঁচারি পুকুরটি আবারও হতে পারে তাড়াইল বাজারের সৌন্দর্যের প্রতীক এবং হতে পারে পর্যটনের জন্য একটি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান। পুকুর পরিষ্কার,ঘাট সংস্কার,সীমানা নির্ধারণ এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী জলাশয়কে এখনও রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করে সচেতন মহল। পুকুরের চারপাশ পরিচ্ছন্ন করে তিন দিকে যদি ল্যাক তৈরি করা যায় তাহলে এই পুকুরটি হতে পারে একটি আকর্ষনীয় বিনোদন স্পট।এলাকাবাসীর দাবি উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে শতবছরের ঐতিহ্যবাহী এই পুকুরটিকে ধ্বংসের হাত থেকে যেন বাঁচানোর ব্যবস্থা করে। নইলে অবহেলায় হারিয়ে যাবে তাড়াইল বাজারের আরেকটি গৌরবোজ্জ্বল জলাশয়।ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত সহ: কর্মকর্তা মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানান,পুকুরটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে ভালো বরাদ্দ দিলে এই পুকুরটি হয়ে উঠবে দৃষ্টি নন্দন। আমদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের নেতৃত্বে সাধ্যমতো যথাযত পদক্ষেপ ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি কিছুদিন পর আমাদের কাজগুলো দৃশ্যমান হবে।