
সুমন ভট্টাচার্য
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা শাহ শহীদ সারোয়ারকে (৬২) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় রোববার (২১ ডিসেম্বর) তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পীরজাদা শেখ মো. মোস্তাছিনুর রহমান জানান,জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি হিসেবে সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান।শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিফাত উল্লাহ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।আদালত সূত্রে জানা গেছে,বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ রিকশাচালক আমীর হোসেন (৩১) ময়মনসিংহ-২ আসনের সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ারসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশে গত ১২ জুলাই ফুলপুর থানা পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে।মামলার বাদী আমীর হোসেন শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার বাগিচাপুর কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় রিকশাচালক এবং ঢাকার উত্তরায় একটি বস্তিতে পরিবারসহ বসবাস করেন।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে অসুস্থ বাবাকে দেখতে বাড়িতে গিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মিছিলের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে ময়মনসিংহ ও ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন তিনি।মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয় ফুলপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিককে এবং দুই নম্বর আসামি করা হয় সাবেক এমপি ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা শাহ শহীদ সারোয়ারকে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়,দুই নম্বর আসামির নেতৃত্বে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের অস্ত্রধারী লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা ওইদিন আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়।উল্লেখ্য,শাহ শহীদ সারোয়ার ফুলপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।