
নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশের জীবনবীমা খাত ক্রমেই এক ভয়াবহ আস্থার সঙ্কটে নিপতিত হচ্ছে। অথচ এই খাত সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত। সর্বশেষ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তথ্য বলছে,পুরো জীবনবীমা খাতের অনিষ্পন্ন দাবির ৯১ শতাংশ আটকে রয়েছে মাত্র সাতটি কোম্পানির হাতে। এ চিত্র শুধু কোম্পানিগুলোর নয়,বরং গোটা খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা ও নিয়ন্ত্রণহীনতার বহিঃপ্রকাশ।
২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী,৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানির মোট অনিষ্পন্ন দাবি ৬ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৬ কোটি টাকা আটকে রেখেছে এই সাত প্রতিষ্ঠান। গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। তারা বছরের পর বছর ধরে তাদের দাবি ফেরত পাচ্ছেন না।
দায়বদ্ধতা এড়িয়ে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স,যাদের কাছে রয়েছে ২ হাজার ৯১৭ কোটি টাকার অনিষ্পন্ন দাবি।
তালিকায় আছে আরও—সানফ্লাওয়ার লাইফ,বায়রা লাইফ,পদ্মা ইসলামী লাইফ,গোল্ডেন লাইফ,হোমল্যান্ড লাইফ এবং প্রগ্রেসিভ লাইফ।
এই কোম্পানিগুলোর অনেকটির পরিচালনায় রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও কর্পোরেট গোষ্ঠী। অনেকে একাধিক দুর্নীতির মামলার আসামিও। এসব কোম্পানিতে পরিশোধের হার দুই শতাংশেরও নিচে।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আসলাম আলম স্বীকার করেছেন, “দেশে ১৫টি জীবন বীমা কোম্পানি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।”১৫ টি কোম্পানি নাম তুলে ধরা হলো এই ১৫ টি বীমা কোম্পানিতে বীমা করার আগে একটু সচেতন হবেন।
হোমল্যান্ড লাইফ,পদ্মা ইসলামী লাইফ,প্রগ্রেসিভ লাইফ,প্রটেক্টিভ ইসলামী লাইফ,বেস্ট লাইফ,প্রাইম ইসলামী লাইফ,যমুনা লাইফ,ডায়মন্ড লাইফ,স্বদেশ লাইফ,সানফ্লাওয়ার লাইফ,ফারইস্ট ইসলামী লাইফ,গোল্ডেন লাইফ,বায়রা লাইফ,এনআরবি ইসলামিক লাইফ,সান লাইফ,পপুলার লাইফ,
তবে প্রশ্ন হচ্ছে—এতবড় অনিয়ম বছরের পর বছর ধরে চললেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা কীভাবে নির্বিকার থাকে?বীমা আইন অনুযায়ী, দাবি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা পরিশোধ না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ নেই।
অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, “নিয়ন্ত্রক সংস্থা পর্যবেক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। দাবি পরিশোধ না হলে পুরো খাতই মুখ থুবড়ে পড়বে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রেটিং সিস্টেম চালু করে কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, মালিকানা কাঠামোতে সংস্কার ও বীমা ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করাই হতে পারে তাৎক্ষণিক সমাধান।
জীবনবীমা খাতে ১২ টির বেশি কোম্পানি ৮০ শতাংশের বেশি দাবি পরিশোধ করেছে, এর মধ্যে রয়েছে প্রগতি লাইফ, আলফা, রূপালী, ট্রাস্ট, সোনালী, মেটলাইফ ও সন্ধানী লাইফ । তবে আস্থাহীনতা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, নির্ভরযোগ্য কোম্পানিগুলোর সুনামও আজ প্রশ্নের মুখে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক হাসিনা শেখ বলেন, “দুই-একটি কোম্পানির দায় গোটা শিল্পকে ডুবিয়ে দিচ্ছে। এখানেই নীতিনির্ধারকদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”