1. admin@auchsangbad.com : admin :
কটিয়াদীতে কালের সাক্ষী ৫০০ বছরের কোটামন দীঘি - আউচ সংবাদ প্রতিদিন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড কিপার মিজানুরকে ঘিরে নানা অভিযোগ হোসেনপুরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের ফেইক টিকেট চক্রের হোতা ‘কালু’ আটক, ৪০ টিকেট উদ্ধার হালুয়াঘাটে এনএসআইয়ের বিশেষ অভিযানে ভারতীয় চোরাই গরু আটক ত্রিশালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা, ঈদের আগে শিশুপার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্যোগ দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ মন্ত্রীর ঈশ্বরগঞ্জে সারের লাইসেন্স বিতরণ নিয়ে এমপি বাবুর ক্ষোভ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রী’র নির্দেশে সবুজে ঘেরা বাঁশবাড়ি কলোনি পরিদর্শনে পরিবেশমন্ত্রী পূজায় নাশকতা-উসকানি বরদাশত নয়, মাঠে থাকবে কঠোর পুলিশ: ডিআইজি ময়মনসিংহে শফিকুল ইসলাম সবির হত্যা তিন ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন কটিয়াদীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মহরম আলী ওরফে মঞ্জুর আলীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক আসামিকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ ভৈরব থানার ওসির বিরুদ্ধে! পাকুন্দিয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে মুক্তিযোদ্ধার উপর হামলা ও বাড়ি ঘর ভাংচুর চৌদ্দগ্রামে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক সেমিনার ও সততা ষ্টোর উদ্বোধন সর্বজনীন পেনশন ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আরসিসি সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শিক্ষক বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহে আলোচনা সভা ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে নানা কর্মসূচি জাপানের কিয়োটোতে 46th SICOT Congress-এ যোগদান শেষে দেশের উদ্দেশ্যে টোকিও ত্যাগ করলেন ডা. এম কামরুজ্জামান মানিক বিএনডিএসের ১ম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ ঘোষণা সভাপতি মোঃ শরীফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শাহনূর কিবরিয়া সুজন হোসেনপুরে বিএমইউজে-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে ১০ লাখ টাকা জরিমানা আইসিটি বিভাগে নিয়োগের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার কোটি টাকা : ‘প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’-এর পকেটে হাজার কোটি টাকা মঙ্গলবাড়িয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপারন্টেনডেন্ট গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে ‘প্রমোট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ নামের একটি বিতর্কিত সংস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রায় কোট টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তথ্য গোপন করে ঘুষ দিয়ে চাকরি, চাকুরী হওয়ার পর স্বামীকে তালাক

কটিয়াদীতে কালের সাক্ষী ৫০০ বছরের কোটামন দীঘি

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৪
  • ২২২ বার পঠিত

ফখর উদ্দিন ইমরান,বিশেষ প্রতিবেদক

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাজা নবরঙ্গ রায় এবং তার স্ত্রী কোটামন রায়ের স্মৃতি বিজরিত ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী কোটামন দীঘি।এলাকায় জনশ্রুতি আছে, সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় তার স্ত্রী কোটামন রায়কে প্রচন্ড ভালবাসতেন।তাই একদিন রাজার স্ত্রী কোটামন রায় রাজার নিকট তার মনোবাসনা ব্যক্ত করলেন যে তার একান্ত ইচ্ছা বড় দীঘিতে স্নান করার।বিভিন্ন তথ্য সূত্র ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,জনশ্রুতিতে আছে ষোড়শ শতকে চারিপাড়া সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায়ের স্ত্রীর নাম ছিল কোটামন রায়।কোটামন রায়ের বড় দিঘিতে স্লান করার ইচ্ছে হলে তা রাজার কাছে ব্যক্ত করেন।স্ত্রীর মনোবাসনা পূর্ণ করার জন্য রাজা নবরঙ্গ রায় ৩০ একর জায়গা নিয়ে বিশাল দিঘি খনন করেন এবং স্ত্রীর নামানুসারেই দিঘিটির নামকরন করেন কোটামন দিঘি।এই কোটামন দিঘি নিয়ে এখনও লোকমুখে নানান কাহিনী শুনা যায়।দিঘির পানি থেকে থালা,বাসন,কলসী,জগ,গ্লাস, ইত্যাদি দিঘির পাড়ে উঠে আসতো।এলাকাবাসী বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করতেন কোন এক সময়ে একজন মহিলা ছোট একটি গ্লাস শাড়ীর আঁচলে লুকিয়ে রাখার ইচ্ছে করলে বাকিগুলো আর দিঘির পানিতে নেমে যেতে চাইনি।গ্লাস ফেরত দেওয়ার পর সবগুলো দিঘির জলে চলে যায়।এরপর থেকে এসব থালা,বাসন,জগ,কলসী,গ্লাস ইত্যাদি আর উঠে আসেনি। খাবারের শেষে যথাস্থানে আবার রেখে দেওয়ার রেওয়াজ ছিল।দিঘিটি নিয়ে দুটি কথা প্রচলন রয়েছে।এদের একটি কথা হচ্ছে,রাজা স্বপ্নে দেখেন এই অঞ্চলে পানির সংকট হয়ে তীব্র খরা দেখা দিতে পারে।সেই জন্য তিনি পানি সংরক্ষণের জন্য বড় দিঘি খনন করেন।তিনি খুবই প্রতাপশালী ও অত্যাচারী রাজা ছিলেন বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়।অন্য কথা হচ্ছে,সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় তার বিবি কোটামন রায়কে অনেক ভালোবাসতেন।নিজের সহধর্মিণীর প্রতি অগাধ প্রেম ও ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ খনন করেন বিশাল এই দিঘিটি।আজো কোটামন দিঘীটি এলাকার মানুষদের নিকট স্মৃতি হয়ে টিকে আছে।এই স্বচ্ছ পানির দিঘিটি কটিয়াদীর সবচেয়ে মনোরম পর্যটন আকৃষ্ট স্থান।কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা সদর থেকে ২ কিলোমিটার দক্ষিণে সড়কের পাশেই আচমিতা ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামে পাঁচশ’ বছরের স্মৃতিবিজড়িত প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত কোটামন দীঘি অবস্থিত।দীঘিতে ঢুকতেই গেট ও পাকা রাস্তা আর সবুজ ঘাসের আবরণ,যা যে কাউকে মুগ্ধ করবে।নয়নাভিরাম এই দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে আসেন অনেক মানুষ।বর্তমানে এই দিঘীটি সংরক্ষিত এলাকা ও প্রবেশের কড়াকড়ি থাকায় পর্যটকরা পরিদর্শন করতে পারছেননা।ষোড়শ শতাব্দীতে কিশোরগঞ্জের যশোদল অঞ্চলের রাজা পিতা গোবর্ধন আইনের নামে রাজা নবরঙ্গ রায় আচতিমা গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।আচমিতার নিকটবর্তী চারিপাড়া গ্রামে রাজা নবরঙ্গ রায় স্বীয় বাসভবন ও প্রধান শাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।ঊনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত পুঁথিকার মুন্সি আবদুর রহিমের পুঁথিতে এর উল্লেখ আছে।‘নবরঙ্গ রাজা ছিল যশোদলে বাস আছিল প্রতাপি অতি দেশেতে প্রকাশ।তাহাতে আমির খাঁ সবংশে বদিয়া’ পুঁথির বর্ণনা মতে এবং ঐতিহাসিক কেদারনাথ মঞ্জুমদারের ময়মনসিংহের গ্রন্থে ঈশা খাঁর সমসাময়িক তালুক আমির খাঁ রাজা নবরঙ্গ রায়ের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন।যুদ্ধে সপরিবারের রাজা নবরঙ্গ রায় নিহত হন।রাজার ১৩তম বংশধর দীগেন্দ্র রায় চৌধুরীর কোনো সন্তান না থাকায় সর্বশেষ দত্তক বংশধর ছিলেন স্বদেশ রঞ্জন রায় চৌধুরী।উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি ছিলেন রাজার রাজপ্রাসাদ ও কোটামন দীঘির মালিক। তিনি ১৯৮২ সালে স্থানীয় শিল্পপতি আশরাফ উদ্দিন আহমেদ ওরফে মেনু মিয়ার কাছে বিক্রি করে ভারত চলে যান।সেই থেকে আশরাফ আহমেদের পরিবার বিশাল এই জায়গাটি ভোগদখল করে আসছেন।বর্তমানে জনসাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
রাজপ্রাসাদ ও বাড়িটি ৮ একর ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। রাজপ্রাসাদের সামনেই অবস্থিত কোটামন দীঘি।রাজবাড়ির পেছনের পুকুর পাড়েই ছিল রাজপ্রাসাদের প্রাচীন অট্টালিকা যা আজ নেই।পরবর্তী সময়ে যা নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে।রাজার বংশধরদের নির্মাণাধীন কারুকার্যমণ্ডিত বৈঠকখানাও রাখা হয়নি।কোটামন দীঘির চার পাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ,বাহারি হাজারো ফল গাছ, ফুলের বাগান,আম ও লেবু বাগান রয়েছে।রাজবাড়ি ও কোটামন দীঘির মাঝখানে রয়েছে সৌন্দর্যমণ্ডিত বাগান।সেখানে বিভিন্ন জীবজন্তুর ভাস্কর নির্মাণ করা হয়।অনেক বিদেশি অতিথিও কোটামন দীঘি পরিদর্শন করেছেন।ঐতিহাসিক কোটামন দিঘীতে পর্যটকদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ আউচ সংবাদ প্রতিদিন
Theme Customized By Shakil IT Park
error: Content is protected !!