
নিকলী প্রতিনিধির পাঠানো তত্ত্ব
কিশোরগঞ্জের নিকলী- কটিয়াদীসহ বিভিন্ন উপজেলায় পরিবেশ অধিদফতরের আইন অমান্য করেই গড়ে উঠেছে বহু ইটভাটা। নিকলী উপজেলায় প্রভাবশালী এক পরিবারের যৌথ মালিকানায় গড়ে উঠেছে চারটি ইটভাটা। অভিযোগ রয়েছে, পরিবেশ অধিদফতরের আইন অমান্য করেই তারা যুগ যুগ ধরে চালিয়ে যাচ্ছে এসব অবৈধ ইটভাটা। দুই ফসলী জমির ওপর, মূল রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় চোখ মেললেই দেখা যায় এসব ভাটা। একাধিক সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি জনবহুল হাটবাজারের কাছেই রয়েছে কামাল ব্রিক ফিল্ড নামের একটি ভাটা।অভিযোগ রয়েছে কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের কান্দালিয়ার শাপলা ব্রিকফিল্ড, আলতাফ ব্রিকফিল্ড ও কামাল ব্রিকফিল্ড একই পরিবারের।ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় আশপাশের ঘরবাড়িতে ধুলাবালু আর ছাই পড়ে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
এসব ইটভাটায় অনেক সময় কয়লার পরিবর্তে লাকড়ি দিয়ে ইট পোড়ানো হয়। যার ফলে বেশি পরিমাণে কালো ধোঁয়া নির্গত হয়।কালো ধোঁয়ার ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, অন্য দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিকটবর্তী হওয়ায় কোমলমতি শিশু-কিশোররাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও দিন দিন বেড়ে চলেছে।একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়া নির্গত হওয়ার ফলে এলার্জিজনিত সমস্যা, চুলকানি, একজিমা রোগ বেশি হারে দেখা দিচ্ছে।একই পরিবারের নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের বনমালীপুর গ্রামের সামিহা ব্রিকফিল্ড নির্মাণের ফলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অত্র এলাকার দুই ফসলী জমির ক্ষতির পাশাপাশি নারিকেল গাছসহ বিভিন্ন গাছের মুকুল ঝরে যাচ্ছে। অন্য দিকে অতিরিক্ত মাটি বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে হাওরের বুকে যাওয়ার একমাত্র মেঠোপথটিও মানুষের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন গিয়ে আরো দেখা যায়, ড্রেজারের সাহায্যে কৃষিজমির উপরের স্তরের পলিমাটি কেটে তা ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে ফসলি জমির উর্বরাশক্তি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, প্রভাবশালীদের ইটভাটা বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে দফায় দফায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
কটিয়াদী উপজেলার এক ইটভাটা মালিক অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার জানা মতে নতুন করে পরিবেশ অধিদফতর কোনো ছাড়পত্র দিচ্ছে না। আর দুঃখের বিষয় হচ্ছে কয়লার আমদানিও কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকেই কয়লার পরিবর্তে লাকড়ি ব্যবহার করছেন।
নিকলী উপজেলা আবহাওয়া অধিদপতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার ফারুক বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়া নির্গত হওয়ার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ পরিবেশ অধিদফতরের সিনিয়র কেমিস্ট রুবাইয়াত তাহরিম সৌরভ বলেন, কিশোরগঞ্জে কতগুলো ইটভাটা আছে তা আমি এই মুহূর্তে অফিসিয়ালি বলতে পারব না। তবে এর ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে আর আন অফিসিয়ালি আমার পাওয়া তথ্য মতে কিশোরগঞ্জে ১০৯টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে কয়টি ইটভাটা পরিবেশ অধিদফতরের নিয়ম মেনে চলছে এবং নতুন করে কোনো ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে কিনা জানত চাইলে তিনি বলেন, নতুন কোনো ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে না। আর পুরনো ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নের সময়ও অনেক বাদ যাচ্ছে।