
শাফায়েত নূরুল- নিকলী প্রতিনিধিঃ- প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কিশোরগঞ্জের হাওর নিকলীতে। দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ, মেঘ এবং হাওরের জলরাশি যে কাউকে রোমাঞ্চিত করবে। প্রতি বছর পর্যটকরা নিকলী মিঠামইন অষ্টগ্রাম ও ইটনা হাওরের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। এবার হাওরের সৌন্দর্যের সঙ্গে দেখা মিলবে অভিজাত মনোরম পরিবেশে এক স্বপ্নের রুপসী আলম রিসোর্ট।
নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের টি এন টি সংলগ্ন
চমৎকার একটি জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে স্বপ্নের “আলম রিসোর্ট।
রিসোর্টের মূল ফটকে ঢুকতেই যেকারোই চোখ জুড়িয়ে যাবে তার এক্সটেরিওর ও ইন্টেরিওর দেখে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,এতদিন কিশোরগঞ্জ শহরে থেকেই হাওর ঘুরতে হতো ভ্রমণ পিপাসুদের দিনে গিয়ে আবার দিনে ফিরতে হতো।পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল না।এসব কথা মাথায় রেখে নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের টি.এন.টি সংলগ্ন পাশে খোলা এক জ্বলরাশির পাশের জায়গায় দ্বীপের মতো গড়ে তোলা হয়েছে স্বপ্নের “আলম রিসোর্ট।
রিসোর্টটিতে রেস্টুরেন্ট, পার্টি সেন্টার ও শিশুদের জন্য খেলার মনোমুগ্ধকর জোন এবং বিশাল গাড়ি পার্কিং করা হয়েছে। ওপর থেকে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য বানানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা লাগানো হয়েছে রিসোর্টের চারপাশে। এসব কিছু নির্মাণ করা হয়েছে আট মাসে।
ইতোমধ্যে রিসোর্টের ভাড়া নির্ধারণ হয়ে গেছে,যা এই হাওরের ভেতর সল্পমূল্যে ভাড়া প্রদান করা হচ্ছে।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জনাব, জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় বর্তমানে রিসোর্ট এর সেবা ২৪ ঘন্টা প্রদান করা হচ্ছে এবং একটি রিসোর্টের যা যা সুবিধা থাকা প্রয়োজন তাই দেয়া হচ্ছে কাস্টমারের সকল সুবিধার কথা মাথায় রেখে।নিঃসন্দেহে এই রিসোর্ট হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের মাধ্যম আবারও নিকলী হাওর কে বাংলাদেশের সকল স্থানে তার সুনাম ছড়িয়ে দেবে। বর্ষায় পানির ওপর রোদবৃষ্টির খেলা, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখা, ডিঙি নৌকা,ট্রলার কিংবা স্পিডবোটের ভ্রমণ দেখতে পারবেন।
নিকলী উপজেলার চারপাশে আরও তিনটি হাওরবেষ্টিত উপজেলা রয়েছে। সেগুলো হলো অষ্টগ্রাম ও ইটনা মিঠাইমন রিসোর্টে থেকে হাওরগুলো ঘুরে দেখা যাবে।তিনটি হাওরে পাঁচ-ছয় মাস পানি থাকে। বাকি সময় পানি না থাকলেও জায়গাগুলো সুন্দর।
ময়মনসিংহ থেকে কয়েকজন বন্ধু হাওরে ঘুরতে এসেছেন। তাদের মধ্যে জমিদার বাড়ি ওয়েডিং এন্ড প্লানার এর স্বত্বাধিকারী জনাব কাজী রিয়াদ আমাদের নতুন সময় কে বলেন, কক্সবাজার ছাড়া এত দিগন্ত বিস্তৃত পানি, এত বড় বড় ঢেউ অন্য কোথাও আছে,হাওরে না এলে জানতামই না। ময়মনসিংহ থেকে মোটরসাইকেলে আট বন্ধু কিশোরগঞ্জে এসেছি। সেখান থেকে নিকলী স্বপ্নের “আলম রিসোর্টে উঠে বেড়ীবাঁধ দেখতে আসলাম। সত্যিই অসাধারণ এবং ভিষন দৃষ্টিনন্দন। খুব ভালো লাগলো। ভবিষ্যতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে থাকার পরিকল্পনা করবো।
এই ব্যাপারে রিসোর্টের ম্যানেজার জনাব কারার হিমেল বলেন পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে আমরা আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ রিসোর্টটি গড়ে তুলেছি। তিন তারকা মানের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। রুম কোয়ালিটি ও ব্যবস্থাপনার কথা মাথায় নিয়ে ভাড়া ও প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। যেকোনো পরিবার নিরাপদে অবকাশ যাপন করতে পারবেন।’নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ শাকিলা পারভীন জানান’
‘হাওর অঞ্চলে পর্যটকদের জন্য এই রিসোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে পর্যটকদের প্রত্যাশার সঙ্গে সমন্বয় রেখে যদি রিসোর্টটি পরিচালনা করা হয় তবে পর্যটক বাড়বে। এরই মধ্যে রিসোর্ট নিয়ে মানুষের ভিষন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কাজেই পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের।