
সুমন ভট্টাচার্য
বিএফআরআই আয়োজিত কর্মশালায় মাছ ও প্রযুক্তি বিষয়ক দিকনির্দেশনা।ময়মনসিংহে আয়োজিত একটি আঞ্চলিক কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, মাছ শুধু আমিষের উৎস নয়, এটি বাঙালির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তঃসমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত “বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি (২০২৪-২৫) পর্যালোচনা ও গবেষণা পরিকল্পনা (২০২৫-২৬) প্রণয়ন” শীর্ষক কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।উপদেষ্টা বলেন, “ছোট মাছের বিলুপ্তি রোধে বিএফআরআইকে সচেষ্ট হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং অধিদপ্তরসমূহকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, তবেই গুণগত পরিবর্তন সম্ভব।” তিনি গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সহজবোধ্য ও জনগণের জন্য উপকারী হওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, হাওরাঞ্চলে মাছ রক্ষায় জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির কার্যকর উদ্যোগে কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।তিনি বলেন, “আইইউসিএন-এর শ্রেণিবিন্যাস অনুসারে বিপন্ন প্রজাতির মাছ শনাক্ত ও সংরক্ষণে বিএফআরআই ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।” এ কার্যক্রম সফল হলে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে তা হবে একটি বড় অর্জন।
কর্মশালার বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, গবেষণার ফলাফল মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএফআরআই-এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন।বিএফআরআই-এর মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও খামারিরা। কর্মশালায় ড. হারুন উর রশিদ গবেষণা পরিকল্পনার বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।