
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু সারের লাইসেন্স বিতরণকে কেন্দ্র করে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। লাইসেন্স বিতরণে অনৈতিক লেনদেন এবং আওয়ামী লীগের লোকজনকে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, সারের লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁকে টাকা দিতে চাইলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ঈশ্বরগঞ্জে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেননি এবং ভবিষ্যতেও নেবেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরিষা ইউনিয়নে সারের লাইসেন্স বিতরণের প্রসঙ্গ তুলে এমপি বাবু লেখেন, তাঁর দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অর্থের বিনিময়ে সুবিধা নিতে আগ্রহীদের লাইসেন্স দেওয়া হলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পোস্টে সংসদ সদস্য দাবি করেন, লাইসেন্স বিতরণে কারা কত শতাংশ অর্থ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব না পাওয়া পর্যন্ত ঈশ্বরগঞ্জে তাঁর মনোনীত কোনো ব্যক্তিকে সারের লাইসেন্স নিতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এমপি বাবু আরও লেখেন, তাঁর দলের নেতাকর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হবেন, অথচ অর্থের বিনিময়ে অন্যদের সারের লাইসেন্স দেওয়া হবে—এটি মেনে নেওয়া যায় না। এ সময় নিজেদের অর্থায়নে থানার জন্য গাড়ি দেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে প্রশাসনের জবাবদিহি ও শুদ্ধি অভিযানের দাবি জানান সংসদ সদস্য। রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার আগে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ চালানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।