
হাকীম মোঃ রফিকুল ইসলাম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন শাখায় ঘোষিত ২৩ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। কেন্দ্রীয় অনুমোদন ছাড়াই গোপনে গঠিত এই কমিটিকে “সম্পূর্ণ ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে উল্লেখ করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা রেল শ্রমিক দলের বর্তমান আহ্বায়ক মোঃ ওসমান।
ওসমানের সরাসরি মন্তব্য: “এই তথাকথিত কমিটির কোনো বৈধতা নেই। এটি গঠনতন্ত্রবিরোধী এবং কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ছাড়া গোপনে তৈরি করা হয়েছে। আমরা এই ভুয়া কমিটিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।”তিনি আরও বলেন—“আমরা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় আদর্শ লালন করে মাঠে কাজ করছি। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি, যারা অতীতে আওয়ামী ঘরানার ছিল, তারাই এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নিতে চাইছে। এটা বরদাশত করা হবে না।”
“পুরনো কমিটি এখনো বলবৎ”
ওসমান দাবি করেন, বর্তমানে যে কমিটি দায়িত্বে আছে, সেটিই কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদিত ও বৈধ কমিটি। কোনোভাবেই তার মেয়াদ শেষ হয়নি বা বাতিল করা হয়নি। নতুন যেটা করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’, ‘জাল’ এবং ‘দলীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য সাজানো চক্রান্ত’।
দলীয় ভাঙন ঘটানোর ষড়যন্ত্র?ওসমানসহ অন্যান্য ত্যাগী নেতারা বলছেন, একদল সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি বিএনপির জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে নিজেদের পুরনো পরিচয় মুছে ফেলতে চাইছে। অথচ বাস্তবতা হলো—এইসব নেতার অতীতে সরকারি ঘনিষ্ঠ সংগঠন, বিশেষ করে রেল শ্রমিক লীগ–এর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যেটি সাধারণ মানুষ ও রেলশ্রমিকেরা ভুলে যাননি।
সংগঠনের ভিত কাঁপছে, কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ জরুরি নেতারা মনে করছেন, এই অবৈধ কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তি না কাটলে মাঠ পর্যায়ে বিএনপির শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম ভেঙে পড়তে পারে। ত্যাগী ও নিবেদিত নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়বে, এবং বিভ্রান্তি ছড়াবে সাধারণ কর্মীদের মাঝে৷
আহবায়ক মোঃ ওসমানের সরাসরি বক্তব্যের পর ‘নতুন কমিটি’ যে আদতেই ভুয়া, তা স্পষ্ট। এখন প্রয়োজন দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা। আদর্শ দিয়ে নয়, সুবিধা দিয়ে রাজনীতি করা এসব লোকদের হাত থেকে সংগঠন বাঁচানো এখন সময়ের দাবি।