
হাকীম মোঃরফিকুল ইসলাম
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ে চার বছর ধরে অনুপস্থিত থাকার পরও কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অভিভাবক মহলে উদ্বেগ বিরাজ করছে।বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার) জনাব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এই সময়ের মধ্যে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন, যা সরাসরি সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘনের সামিল।
বিদ্যালয়ের বর্তমান সহকারী শিক্ষক মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল এক লিখিত অভিযোগে বলেন, “জনাব কামরুজ্জামান কোন প্রকার ছাড়পত্র, আবেদন বা যথাযথ কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেছেন। বিষয়টি বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগার-ভিত্তিক পাঠচর্চায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এতো বড় অনিয়মের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত বা শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এমনকি একাধিকবার জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।”
📘 শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা
একজন গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব শুধু বই দেখভাল নয়, বরং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করা। অথচ চার বছর ধরে এ দায়িত্ব পালন না করায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
⚖️ বিধিমালার চরম লঙ্ঘন
বাংলাদেশ সরকারি চাকরি বিধিমালা, ১৯৭৯ এর ধারা ১১ ও ১২ অনুযায়ী, অননুমোদিত অনুপস্থিতি চাকরিচ্যুতি বা শাস্তির আওতাভুক্ত শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধ। বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়, এটি নৈতিকতাবিরোধীও।
📣 তদন্ত দাবি
এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষে থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোরালো দাবি উঠেছে—অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে করে ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে এভাবে অবহেলা করতে না পারে।