
হত্যাসহ দেড় ডজন মামলা, তবুও প্রার্থীতা বৈধ সুমনের !
বিশেষ প্রতিনিধি
গুলি করে এবং পিটিয়ে মানুষ হত্যা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতনসহ দেড় ডজন মামলার আসামী সুমন আহমেদ ভূইয়া ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন! এই সুমন আহমেদ ভূইয়া ঢাকার উপকন্ঠ শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার ত্রাস ! শিল্পাঞ্চলের কেন্দ্রস্থল ইয়ারপুর ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে তার প্রার্থীতাকে বৈধতা দিয়েছে সাভার উপজেলা নির্বাচন অফিস। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে পুরো শিল্পাঞ্চলে। সুষ্ঠ্য নির্বাচন এবং নির্ভয়ে ভোট প্রদানসহ নানান বিষয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন ভোটাররাও।
এই উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একজন নমিনেশন প্রাথী ছিলেন সুমন আহমেদ ভূইয়া। আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও তাকে নমিনেশন দেয়নি আওয়ামী লীগ। সুমনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয় দল। দলের নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা করছেন সুমন। তবে সুমনের বিরুদ্ধে এখনও কোন শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেয়নি আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগ।
সুমনের বিরুদ্ধে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট ১৫ টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এরমধ্যে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় একটি মামলা হয়েছে ২০০৯ সালে, ২০১০ সালে একটি হত্যাসহ আশুলিয়া থানায় মামলা হয়েছে মোট তিনটি, ২০১১ সালের সাভার মডেল থানায় মামলা হয়েছে ১টি, ২০১২ সালে আশুলিয়া থানায় ২টি এবং তুরাগ থানায় একটি, ২০১৪ সালে কদমতলী থানায় একটি, গাজীপুরের জয়দেবপুর থানায় একটি এবং আশুলিয়া থানায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারসহ মোট ৩টি, ২০১৬ সালে আশুলিয়া থানায় একটি। সব গুলো মামলায় হত্যা, তুলে নিয়ে নির্যাতন, চাঁদাবাজিই মুখ্য অভিযোগ বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ইয়ারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ মাষ্টারের ছেলে সুমন আহমেদ ভূইয়া শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। সূমনের ত্রাসের রাজত্বের সূচনা হয়েছিল সাভার-আশুলিয়ার সাবেক সাংসদ তৌহিদ জং মুরাদের খলিফা হিসেবে। ২০০৮ সালে মুরাদ জং সংসদ সদস্য হওয়ার পর আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে মুরাদের খলিফা বনে যান সুমন আহমেদ ভূইয়া। মুরাদের খলিফা হিসেবে একের পর এক অপরাধ করেও ধরাছোয়ার বাইরে থাকেন সুমন।
২০১০ সালের ১১ ই ফেব্রুয়ারী ইয়ারপুর ইউনিয়নের বেরন গ্রামের মোল্লাবাজার এলাকার আতাব উদ্দিনের ছেলে আবুল কালামের বাড়িতে ঢুকে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেন সুমন ও তার দলবল। এ ছাড়াও অজানা নানান অপরাধে সিদ্ধহস্ত সুমন। হাতে তাজা রক্ত নিয়ে খেলা করা সুমন চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য বর্তমানে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
সুমনের প্রার্থীতার বৈধতার বিষয়টি নিয়ে সাভার উপজেলা নির্বাচন অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আইনে কোন হলফনামা প্রদানের বিধান না থাকায় চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীম আহমেদ সুমনের (সুমন আহমেদ ভূইয়া ) মামলার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তা ছাড়া তিনি কোন মামলায় সাজা প্রাপ্ত হয়েছেন কি না- সেই তথ্যও আমাদের কাছে নেই। তিনি যদি সাজাপ্রাপ্ত না হয়ে থাকেন- তাহলে তার প্রার্থীতার বৈধতার বিষয়ে কোন সমস্যা নেই। এরপরেও বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব”।
শনিবার দুপুরে ইয়ারপুর ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে মোট ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা করে সাভার উপজেলা নির্বাচন অফিস। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে বিএনপি থেকে রয়েছেন তিনজন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রাথী একজন এবং সুমনসহ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রাথী রয়েছেন আরও তিনজন।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন,সভাপতি দেশের বাহিরে রয়েছেন। তিনি ফিরে আসলেই বিদ্রোহীদরে বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আগামী ১০ই ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। আমরা আশা করি, এই সময়ের মধ্যে বিদ্রোহীরা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন। এরপরেও যারা প্রাথীতা প্রত্যাহার করবে না, তারা যদি ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা হয়-তাহলে থানা আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিবে। আর তারা যদি থানা আওয়ামী লীগের নেতা হয়-তাহলে তাদের বিরুদ্ধে জেলা কমিটি ব্যবস্থা নিবে”।