বিশেষ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ সদর উপজে,লার ভাবখালী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন(সেলিম)-এর বিরুদ্ধে জমি দখল,নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য,সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেলিম ভাবখালী দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হন। ওই মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী,ঝাড়ুদারসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া মাদ্রাসায় জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত প্রায় ৭ লাখ টাকা এবং নারায়ণপুর তোরার মোড় জামে মসজিদের প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।এদিকে ভাবখালী মৌজায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ভাসমান কিছু জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর সঙ্গে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম নেয় এবং বিষয়টি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও উঠে আসে।অভিযোগ রয়েছে,তিন ফসলি কৃষিজমিতে শিল্পকারখানা স্থাপনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে ভাবখালী গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাশে পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের নামে জমি ক্রয়ের উদ্যোগ নেন সেলিম। সরেজমিনে দেখা গেছে,এসব জমিতে গম,ভুট্টা,মরিচ,বাদাম,ধান ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয় এবং প্রতি বছর এখান থেকে বিপুল পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ,২০১৯ সাল থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও সাবেক যুবলীগ নেতা সেলিমের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র দালালের মাধ্যমে কৃষকদের জমি কেনার চেষ্টা শুরু করে। অনেক কৃষক জমি বিক্রি করতে অনিচ্ছুক হলেও নানা কৌশলে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করা হয়। জমিতে একটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলে ক্ষুব্ধ কৃষকরা তা ভেঙে ফেলেন।স্থানীয় জমির মালিক আব্দুল জব্বারের ছেলে মকবুল হোসেন বলেন,“গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র এবং কৃষিজমির ওপর নির্ভরশীল। একটি প্রভাবশালী কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে সেলিম অনেকের জমি দখলের চেষ্টা করছেন। হুমকি-ধামকি দেওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছি।”এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে,আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সেলিম।এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ময়মনসিংহ ও নিজ এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।জানা যায়,ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালী ময়নার মোড় এলাকায় জমিসহ একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান,সেলিমের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১২ নম্বর ভাবখালী ইউনিয়নের ভাবখালী গ্রামের মাথালিয়া বাড়িতে। স্কুলজীবনেই তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ভাবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইদ্রিস আলী মীরের হাত ধরে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরে তিনি যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমুল হক হলে দায়িত্বে থাকলেও নিয়মিত অফিস না করে অধিকাংশ সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।
প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট মোহাম্মদ সাঈদুল হক সাঈদ শাওন,সম্পাদক ও প্রকাশক : এফ এম আব্বাস উদ্দিন,
ঠিকানা : এ এস গন্ধী প্লাজা ৪র্থ তলা জেলা স্বরণী মোড়,কিশোরগঞ্জ।মোবাইল : ০৯৬৯৭৬৪৮০৩৫, ০৯৬৩৮৯২৩৫২৪,০১৬১৫৩১৮০৩৫ই-মেইল :
auchsangbad@gmail.com