সুমন ভট্টাচার্য
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা।নির্বাচনী উত্তাপের প্রভাব পড়েছে ময়মনসিংহের রাজনীতিতেও।জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৯টিতেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা,যা দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপি,স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের জোর প্রচারণায় প্রতিটি আসনেই ভোটের মাঠ সরগরম। এতে করে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। সংঘর্ষ,হামলা ও মামলার আশঙ্কা করছেন প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকরা।ময়মনসিংহ-১(হালুয়াঘাটধোবাউড়া)
এই সীমান্তবর্তী আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও ব্যবসায়ী সালমান ওমর রুবেল(ঘোড়া)শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।মোট ভোটার ৪,৭৮,১৮৪ জন,কেন্দ্র ১৪৩টি,ঝুঁকিপূর্ণ ৪৫টি।গত ১৬ জানুয়ারি ধোবাউড়ায় প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নজরুল ইসলাম নামে এক কর্মী নিহত হন।ময়মনসিংহ-২(ফুলপুর–তারাকান্দা)সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে মাঠে নামায় ভোটের সমীকরণ বদলে গেছে।ভোটার ৫,৬৯,৮১২ জন,কেন্দ্র ১৭৪টি(ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮টি)।ময়মনসিংহ-৩(গৌরীপুর)বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী এম ইকবাল হোসাইনের বিপক্ষে বহিষ্কৃত নেতা আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দলীয় কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করেছে।ভোটার ২,৯৪,৬০৮ জন,কেন্দ্র ৯২টি (ঝুঁকিপূর্ণ ৪২টি)।ময়মনসিংহ-৪(সদর)এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপির আবু ওয়াহাব আকন্দ ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।ভোটার ৬,৯১,১৯৬ জন,কেন্দ্র ১৭৯টি(ঝুঁকিপূর্ণ ৬৫টি)।ময়মনসিংহ-৫(মুক্তাগাছা)বিএনপির জাকির হোসেন বাবলু ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।ভোটার ৩,৮৩,৫০১ জন,কেন্দ্র ১০৪টি।ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া)বিএনপি প্রার্থী আখতারুল আলমের বিপক্ষে সাবেক এমপি শামছ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী আখতার সুলতানা ও জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক জসিম উদ্দিন শক্ত অবস্থান নিয়েছেন।ভোটার ৪,১২,৮৪৩ জন,কেন্দ্র ১২১টি।ময়মনসিংহ-৭(ত্রিশাল)স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাতের কারণে বিএনপি প্রার্থী ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন চাপে রয়েছেন।ভোটার ৩,৯৮,৭৯৬ জন,কেন্দ্র ১২০টি।ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ)সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবির শাহিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে ভোটারদের কাছে।ভোটার ৩,৪৪,৬২২ জন,কেন্দ্র ৯২টি।
ময়মনসিংহ-৯(নান্দাইল)চারবারের সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন।ভোটার ৩,৮০,৩২৪ জন,কেন্দ্র ১২১টি।ময়মনসিংহ-১০(গফরগাঁও)বিএনপি প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।রেললাইনে নাশকতার ঘটনায় এই আসন আলোচনায় আসে।ভোটার ৪,৫২,০৬৬ জন,কেন্দ্র ১১১টি।ময়মনসিংহ-১১(ভালুকা)বিদ্রোহী প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদুল আলমের কারণে বিএনপি প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু চাপে রয়েছেন।ভোটার ৩,৫৪,৩৯০ জন, কেন্দ্র ১০৭টি।সার্বিক পরিস্থিতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ময়মনসিংহে এবারের নির্বাচনে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় বিদ্রোহ।প্রতিটি আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কারণে শেষ মুহূর্তে বড় চমক দেখা যেতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট মোহাম্মদ সাঈদুল হক সাঈদ শাওন,সম্পাদক ও প্রকাশক : এফ এম আব্বাস উদ্দিন,
ঠিকানা : এ এস গন্ধী প্লাজা ৪র্থ তলা জেলা স্বরণী মোড়,কিশোরগঞ্জ।মোবাইল : ০৯৬৯৭৬৪৮০৩৫, ০৯৬৩৮৯২৩৫২৪,০১৬১৫৩১৮০৩৫ই-মেইল :
auchsangbad@gmail.com