সুমন ভট্টাচার্য
দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার, ৪ দফা দাবির বাস্তবায়ন এবং তার পরিবারের আজীবনের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণের দাবিতে ময়মনসিংহে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন আন্দোলনরত গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনসমূহের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদ। ২৫ জানুয়ারি দুপুরে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান এর হাতে এ স্মারকলিপি তুলে দেন গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনসমূহের পক্ষে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এর সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান,জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডাঃ হারুন অর রশীদ,গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন সমন্বয়ক শামীম ইমাম,গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলন এর সদস্য সচিব প্রশান্ত সিনহা,গণমুক্তি ইউনিয়ন সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন নাসু,গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট এর সমন্বয়ক ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এর সভাপতি অমল ত্রিপুরা,বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এর সহ-সাধারণ সম্পাদক নরেশ ত্রিপুরা,বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের সংগঠক দেবব্রত সাহা,জাকিরুল বাশার আক্রাম,বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির ময়মনসিংহ জেলার সাধারন সম্পাদক শেখ বাহার মজুমদার,বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি এ্যাড. হারুন-অর-রশিদ,বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের কোষাধক্ষ্য বাবলী আকন্দ। স্মারকলিপিেেত উল্লেখ করা হয় যে,দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকান্ডের পর থেকে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার অসহায় পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে সোচ্চার রয়েছে সংগঠনগুলো। ইতিপূর্বে এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে সভা-সমাবেশ,দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করা,সংবাদ সম্মেলন,রোর্ড মার্চ কর্মসূচি আহবান করে ৪ দফা দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেফতার করা। দীপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে একটি নিখুঁত চার্জশিট দাখিল এবং 'দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার রায় নিশ্চিত করা,নিহতের পরিবারটির ভরণপোষণের জন্য একজীবনের আয়ের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা,নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবার যেন কোনো ধরনের হুমকি বা আতঙ্কে না থাকে,সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় জনতার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও নিরপরাধ মানুষকে যাতে হয়রানি না করা হয়,তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়। উল্লেখ্য গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির মিথ্যা অভিযোগে পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ দাবি করে বলেন,মামলার প্রক্রিয়া আশানুরূপ গতিতে এগোচ্ছে না। অপরাধীরা যেন কোনো আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষ করে,এই মামলার আসামীদের ৩০৪ ধারায় হত্যা দায়ের, বাকি আসামীদের গ্রেফতার নিশ্চিত করতে হবে। এই ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। দীপু চন্দ্র দাশকে মবের হাতে তুলে দিয়েছে। এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট কারখানা মালিক এবং ম্যানেজমেন্টের দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। এসময় তাঁরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি যেন পরিবারটিকে আরও অসহায় করে না তোলে। দরিদ্র পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে এ সময় জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে যারা চিহ্নিত তাদের ধরে আইনের আওতায় আনা। আপনারা জেনে থাকবেন,ইতিমধ্যে ২২ জন আসামী এরেষ্ট হয়েছে। নিরীহরা কোন হয়রানির শিকার হবে না।
প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট মোহাম্মদ সাঈদুল হক সাঈদ শাওন,সম্পাদক ও প্রকাশক : এফ এম আব্বাস উদ্দিন,
ঠিকানা : এ এস গন্ধী প্লাজা ৪র্থ তলা জেলা স্বরণী মোড়,কিশোরগঞ্জ।মোবাইল : ০৯৬৯৭৬৪৮০৩৫, ০৯৬৩৮৯২৩৫২৪,০১৬১৫৩১৮০৩৫ই-মেইল :
auchsangbad@gmail.com