স্টাফ রিপোর্টার
ময়মনসিংহে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে পাইওনিয়ার্স নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডের এক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় র্যাব ও পুলিশ পৃথক অভিযানে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। র্যাব সাতজনকে এবং পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার সাতজন হলেন:
মো. আলমগীর হোসেন (৩৮),ফ্লোর ইনচার্জ মিরাজ হোসেন আকন (৪৬),কোয়ালিটি ইনচার্জ মো. তারেক হোসেন (১৯),শ্রমিক মো. লিমন সরকার (২২),শ্রমিক মো. মানিক মিয়া(২০),শ্রমিক এরশাদ আলী (৩৯),শ্রমিক নিঝুম উদ্দিন (২০),শ্রমিক পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন: মো. আজমল হাসান (২৬),ভালুকা মো. শাহিন মিয়া (১৯),ভালুকা মো. নাজমুল (২১),ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার রাতে শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে কারখানা থেকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে মরদেহ ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয়। নিহত দিপুর ছোট ভাই শুক্রবার ভালুকা থানায় মামলা করেছেন।
র্যাব–১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নয়মুল হাসান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে। কারখানার ফ্লোর ইনচার্জ তাঁকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করে উত্তেজিত জনতার হাতে হস্তান্তর করেন। তবে কেন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি,তা আমরা তদন্ত করছি।”র্যাবের কর্মকর্তা আরও বলেন,“ধর্ম অবমাননার বিষয়টি অস্পষ্ট। কী বলা হয়েছে,তা কেউ নির্দিষ্টভাবে বলতে পারেনি। পূর্বশত্রুতা ছিল কি না,তাও যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার সূত্রপাত কার সঙ্গে হয়েছে, তা শনাক্ত করা যায়নি। ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আসামিদের আমরা ধরেছি। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও তথ্য পা ওয়া যাবে।”ফ্লোর ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন “কোম্পানির বাইরে কোনো চায়ের দোকানে দিপু ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছেন,এমন খবরে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা তাকে অব্যাহতি দিয়েছি,কিন্তু কিছু লোক দিপুকে নিয়ে গিয়ে এই নৃশংস ঘটনা ঘটায়।”পুলিশ জানিয়েছে,গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। র্যাবের গ্রেপ্তার সাতজনকে এখনও পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়নি।নিহত দিপু চন্দ্র দাস প্রায় তিন বছর আগে বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁর দেড় বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে। নিহতের ভাই অপু চন্দ্র দাস বলেন,“আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ম নিয়ে কোনো প্রমাণ নেই। আইনের মাধ্যমে বিচার চাই এবং আমাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ কিভাবে চলবে,সেটাও দেখতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট মোহাম্মদ সাঈদুল হক সাঈদ শাওন,সম্পাদক ও প্রকাশক : এফ এম আব্বাস উদ্দিন,
ঠিকানা : এ এস গন্ধী প্লাজা ৪র্থ তলা জেলা স্বরণী মোড়,কিশোরগঞ্জ।মোবাইল : ০৯৬৯৭৬৪৮০৩৫, ০৯৬৩৮৯২৩৫২৪,০১৬১৫৩১৮০৩৫ই-মেইল :
auchsangbad@gmail.com