সুমন ভট্টাচার্য,স্টাফ রিপোর্টার
বর্ণিল আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বইমেলা–২০২৫ এর পর্দা উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে টাউন হল প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) এম এ আকমল হোসেন আজাদ।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায়, বিভাগীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের আয়োজনে শুরু হওয়া ৯ দিনব্যাপী এই বইমেলা চলবে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবারের মেলায় ১০টি সরকারি ও ৬২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৭২টি স্টল অংশগ্রহণ করছে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সেমিনার,আলোচনা সভা,কচিকাঁচার উৎসব,কুইজ,আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কনসহ নানা আয়োজন থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ বলেন,“এই বইমেলা নতুনদের অনুপ্রাণিত করবে। বই আমাদের বাংলাভাষার প্রাণ ধরে রাখবে। বই শুধু জড় বস্তু নয়—এর মধ্যে রয়েছে প্রাণের স্পন্দন। মেলা শুধু বইয়ের স্তুপ নয়,এটি কথোপকথন ও চিন্তার এক উন্মুক্ত ক্ষেত্র।”তিনি আরও বলেন,“বাংলাদেশের সংস্কৃতির রাজধানী এই ময়মনসিংহকে কেন্দ্র করে একটি ‘কালচারাল হাব’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যা এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও এগিয়ে নেবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ শাম্মী এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান,বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী,জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম,সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ খালিদ হোসেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোতাম্মেল ইসলাম এবং শহীদ সাগরের পিতা মোঃ আসাদুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিনা আক্তার।
বক্তৃতায় অতিথিবৃন্দ বলেন,বইমেলার মূল উদ্দেশ্য পাঠক সমাজ সৃষ্টি। নতুন পাঠক তৈরিতে এবং লেখক–পাঠকের মিথস্ক্রিয়ায় বইমেলার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন,“ডিজিটাল যুগে বইপড়া কমে গেলেও মুদ্রিত বই হাতে নিয়ে পড়ার আনন্দের তুলনা নেই। একটি বই মানুষকে আরেকটি বইয়ের কাছে নিয়ে যায়। আলোকিত সমাজ গড়তে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই।”
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন,“বৈষম্যহীন আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে বই অপরিহার্য। বই সৃজনশীলতা ও যুক্তিবাদী মনোভাব জাগ্রত করে। শিশুদের কাছে বই যেন খেলনার চেয়েও আকর্ষণীয় হয় এবং প্রবীণদের সঙ্গী হয়ে ওঠে—এই প্রত্যাশা করি।”
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক,প্রশাসনের কর্মকর্তা,কবি-লেখক-প্রকাশক,সাংবাদিক,সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর অতিথিরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। শুরুর দিনেই বইমেলায় বইপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়ে পুরো প্রাঙ্গণ উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।
প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট মোহাম্মদ সাঈদুল হক সাঈদ শাওন,সম্পাদক ও প্রকাশক : এফ এম আব্বাস উদ্দিন,
ঠিকানা : এ এস গন্ধী প্লাজা ৪র্থ তলা জেলা স্বরণী মোড়,কিশোরগঞ্জ।মোবাইল : ০৯৬৯৭৬৪৮০৩৫, ০৯৬৩৮৯২৩৫২৪,০১৬১৫৩১৮০৩৫ই-মেইল :
auchsangbad@gmail.com