শেখ মামুনুর রশীদ মামুন,ময়মনসিংহঃ
একসময় শান্ত–নিরাপদ শহর হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহ এখন ভয়াবহ আইন–শৃঙ্খলা সংকটে কাঁপছে। পরপর কয়েকটি নির্মম হত্যাকাণ্ডে জনমনে চরম আতঙ্ক—আর ঠিক এমন সময়েই জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোঃ মিজানুর রহমান। দায়িত্বের প্রথম সপ্তাহেই জেলায় ঘটে যাওয়া হত্যার ঘটনায় তিনি এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে। পুলিশ বক্সের সামনে রিয়াদের মৃত্যু—“পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখল?” ২৬ নভেম্বর,পাটগুদাম ব্রিজ মোড়। দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় ফুটপাতেই লুটিয়ে পড়েন রিজওয়ান জাহান খান রিয়াদ (২৪)। ঘটনাস্থলটি ছিল ঠিক পুলিশ বক্সের সামনে—কিন্তু পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ,“রিয়াদ রক্তক্ষরণে ছটফট করছিল…কিন্তু পুলিশ কেউ এগিয়ে আসেনি।” রিয়াদের বাবা সাইদুল হক খানের বুকফাটা আর্তনাদ—“যদি পুলিশ একটু সাহায্য করত, আমার ছেলে বেঁচে যেত…”ঘটনার প্রতিবাদে দুই দফা মানববন্ধনে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। নির্ধারিত সময়েও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় জনরোষ আরও বাড়ছে।পরদিন রাতেই ত্রিশালে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন!ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠে রাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হন মুনতাসির ফাহিম (২২)। অভিযোগ উঠেছে—ঘনিষ্ঠ বন্ধু অহিদুল ইসলামই তাঁকে হত্যা করেছে। হত্যার সময় উপস্থিত থাকা কয়েকজন যুবকের সন্দেহজনক আচরণ ও পূর্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে তদন্ত চলছে।জেলার তরুণ সমাজ বলছে—“বন্ধুর ওপরও ভরসা করা যাচ্ছে না!” ঘাগড়ায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আশিক খুন—শিশুরাও নিরাপদ নয়!
কয়েকদিন আগে ঘাগড়া এলাকায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আশিককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। শিশুটির পরিবারের কাঁদতে কাঁদতে প্রশ্ন—“অপরাধীরা এখন শিশুদেরও ছাড়ছে না…স্কুল পড়ুয়া ছেলে–নিরাপদ ছিল না কেন?” অভিভাবকদের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে—স্কুল–কলেজগামী ছাত্রদের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে। শম্ভুগঞ্জে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন—পরিবারও আর নিরাপদ নয়! পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিবাদের জেরে শম্ভুগঞ্জে বড় ভাইয়ের হাতে খুন হন আজহারুল ইসলাম চুন্নু (৩২)। সচেতন মহলের ভাষ্য—“সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।বিচারহীনতায় অপরাধ চর্চা স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।” মাত্র কয়েকদিন আগে—ময়মনসিংহের চরাঞ্চল চরভবানীপুরে রাতের অন্ধকারে বুকে রড ঢুকিয়ে এক ভাইকে মেরে ফেললো আরেক ভাই ও সহযোগীরা! এমন ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের মামলারও সব আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি—ফলে ক্ষোভ আরও বাড়ছে জনগণের মধ্যে। এক জেলায় একের পর এক খুন—পুলিশি জবাবদিহি কোথায়? ময়মনসিংহে রিয়াদ,আশিক, আজহারুল ইসলাম চুন্নু,ত্রিশালের ফাহিম এবং সদ্য চরভবানীপুরের হত্যাকাণ্ডসহ একের পর এক খুনের ঘটনায় নাগরিকদের প্রশ্ন—“আইন–শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কারও কি কোনো দায় নেই?” স্থানীয়দের মতে—পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ঘাটতি! অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ধীরগতি! টহল ও নজরদারির অভাব! দায়িত্বহীন আচরণ
–অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির সংকট! এসবই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। নতুন এসপি মিজানুর রহমান—কঠিন দায়িত্বের শুরুঃ এমন ভয়াবহ সংকটের মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান। জেলাবাসীর প্রত্যাশা—মাঠে টহল ও নজরদারি জোরদার করা,স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা,পুলিশি ব্যর্থতার বিচার করা,দ্রুত অপরাধী গ্রেফতার ও চার্জশিট দেওয়া,সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। নাগরিক সমাজের দাবি—“ময়মনসিংহকে নিরাপদ করতে হলে পুলিশকে প্রথমে নিজেদের দায় স্বীকার করতে হবে এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।” আইন–শৃঙ্খলা সহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসপি মিজানুর রহমান বলেন—“আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাকে এই জেলায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে নাগরিকদের নিরাপদ চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করা।” তিনি আরও বলেন—“আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শতভাগ নিরাপদ রাখতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা অপরিহার্য। পুলিশ প্রশাসন পেশাগত দায়িত্ব পালনে জনবান্ধব ও সাংবাদিকবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।” ময়মনসিংহবাসীর একটাই দাবি—স্বচ্ছতা,ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা। এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনায়—দ্রুত গ্রেফতার,নিরপেক্ষ তদন্ত,পুলিশি ভূমিকার স্বচ্ছ মূল্যায়ন—এগুলো নিশ্চিত না হলে আইন–শৃঙ্খলা ফিরে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে—অভিমত বিশেষজ্ঞদের। নিরাপত্তাহীনতায় বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ আজ অপেক্ষায়—ন্যায়বিচার, দায়বদ্ধতা ও পুলিশের কার্যকর ভূমিকার। মানুষের একটাই প্রার্থনা—“ময়মনসিংহ আবার হোক নিরাপদ,শান্ত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ।”
প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট মোহাম্মদ সাঈদুল হক সাঈদ শাওন,সম্পাদক ও প্রকাশক : এফ এম আব্বাস উদ্দিন,
ঠিকানা : এ এস গন্ধী প্লাজা ৪র্থ তলা জেলা স্বরণী মোড়,কিশোরগঞ্জ।মোবাইল : ০৯৬৯৭৬৪৮০৩৫, ০৯৬৩৮৯২৩৫২৪,০১৬১৫৩১৮০৩৫ই-মেইল :
auchsangbad@gmail.com