শেখ মামুনুর রশীদ মামুনঃ
নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কোটি কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কাজ হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের! এতে প্রশ্ন উঠেছে-এই অর্থ গেল কোথায়? ভবন হলো শিক্ষার্থীদের জন্য, নাকি কারও আয়ের উৎস? জেলার অন্তত ১০টি উপজেলায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে যেসব ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজ হয়েছে,তার অনেক গুলোতেই দেখা গেছে ফাটল,পলেস্তারা খসে পড়া,বা দেয়াল নড়ার মতো সমস্যার। অথচ কাগজে-কলমে সব কাজ ‘সম্পূর্ণ’ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে রয়েছে:আঞ্জুমান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সাতপাই আলিয়া মাদ্রাসা,লতিফা আব্বাস মডেল মহিলা আলিম মাদ্রাসা,কৈলাটি মাদ্রাসা,বারহাট্টা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিশেষভাবে আলোচিত দশধার মহিলা মাদ্রাসা।
দশধার মহিলা মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী জানায়, “পড়তে এসে আমরা আতঙ্কে থাকি। ছাদের পলেস্তারা পড়ে, দেয়ালেও ফাটল। এটা কি পড়ালেখার জায়গা,নাকি বিপদের মুখোমুখি হবার জায়গা?”এক অভিভাবকের বক্তব্য, “সন্তানকে স্কুলে পাঠাই ভবিষ্যতের জন্য, কিন্তু এখন মনে হয় মৃত্যুঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি।” নিম্নমানের ইট, বালু, রড ব্যবহারের অভিযোগ! স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের উপকরণ। একাধিক প্রকল্পে অন্তত ৮০ শতাংশ ব্যয়ের সঠিক ব্যবহার হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল কবির,ফোনে কথা না বলে-অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দায় তিনি এড়াতে পারেন কি? দাবি উঠেছে: তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। ক্ষতিগ্রস্ত ভবন গুলোর পূর্ণ সংস্কার। ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা। একজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে বড় দুর্ঘটনা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। নির্মাণের মান খুবই দুর্বল, শিক্ষার্থীদের জীবন হুমকিতে!”স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি:নেত্রকোনার সাধারণ মানুষ আর চুপ থাকবে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। শিক্ষার নামে দুর্নীতিকে আর সহ্য করা হবে না—দাবি উঠেছে, ‘শিক্ষার নামে নয়, চাই প্রকৃত উন্নয়ন।’
প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট মোহাম্মদ সাঈদুল হক সাঈদ শাওন,সম্পাদক ও প্রকাশক : এফ এম আব্বাস উদ্দিন,
ঠিকানা : এ এস গন্ধী প্লাজা ৪র্থ তলা জেলা স্বরণী মোড়,কিশোরগঞ্জ।মোবাইল : ০৯৬৯৭৬৪৮০৩৫, ০৯৬৩৮৯২৩৫২৪,০১৬১৫৩১৮০৩৫ই-মেইল :
auchsangbad@gmail.com