শেখ মামুনুর রশীদ মামুনঃ
ময়মনসিংহ শহরের একদম বুকের ওপর দিয়ে চলে গেছে ভৈরব রেললাইন। আর এই রেললাইনের পালপাড়া অংশ আজ পরিণত হয়েছে ভয়ঙ্কর এক অপরাধের দুর্গে!
দিন যায়,রাত আসে—কিন্তু পালপাড়া রেললাইনের চিত্র পাল্টায় না।চুরি! ছিনতাই! নারী নির্যাতন! এমনকি ধর্ষণ—ঘটে যাচ্ছে একের পর এক। কিন্তু পুলিশ কোথায়? প্রশাসন কী করছে? রাষ্ট্র কেন নিশ্চুপ?এক প্রত্যক্ষদর্শী বললেন, “প্রতিদিন রাত হলেই শুরু হয় নেশাগ্রস্ত একদল অপরাধীর শাসন! তারা ৫/৭ জনের দল বেঁধে ঘোরে, পথচারীদের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করে। আর আমরা চুপচাপ দেখি—কারণ জানি, কেউ আসবে না বাঁচাতে।”শুধু তাই নয়, সম্প্রতি এক নারীর উপর ভয়ঙ্কর নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা শহরবাসীকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। তবুও পুলিশ চুপ! তবুও প্রশাসন নিষ্ক্রিয়!
জনগণের প্রশ্ন—
“এই শহর কি আর মানুষের বাসযোগ্য?”
“নারী, শিশু, বৃদ্ধ—কারো কি আর নিরাপত্তা নেই? “আমরা যদি পুলিশের কাছেই নিরাপত্তা না পাই, তাহলে কার কাছে যাব?” অভিযোগ আছে—ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার প্রতিটি মোবাইল টিমে মাত্র ২/৩ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত। এমনকি রাতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবির) কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না! আর এই সুযোগে অপরাধীরা বেপরোয়া! চুরি-ছিনতাই তো নিত্যদিনের ঘটনা, এখন রেললাইনের পাশে তৈরি হয়েছে মাদক সেবনের আড্ডা! একজন স্থানীয় বাসিন্দার গলায় রাগ আর হতাশার মিশেল:
“আমরা পুলিশকে জানাই, কিন্তু তারা বলে লোকবল নেই। তাহলে কী সরকার চায় আমরা নিজেরাই অস্ত্র হাতে তুলে নিই?”“এ কেমন রাষ্ট্র যেখানে অপরাধী রাজত্ব করে, আর পুলিশ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে?” প্রশ্ন উঠেছে— আর কত নারী ধর্ষিত হলে পুলিশ জেগে উঠবে? আর কত শিশু আতঙ্কে ঘুমাবে, মায়েরা চোখের পানি ফেলবে? আর কত বাড়ি খালি হয়ে যাবে চোরের আতঙ্কে? আর কতবার ছিনতাইকারীর হাতে প্রাণ যাবে? জনগণকে নিরাপত্তা না দিলে রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মানে কী?এই কি সেই সোনার বাংলা, যে বাংলার জন্য লাখো শহীদ রক্ত দিয়েছিল? মানবাধিকার সংগঠন, ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন নাগরিক সমাজ এক সুরে বলছে—এই অব্যবস্থার শেষ চাই! এই নিষ্ক্রিয়তা আর নয়! অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করো! প্রশাসনকে জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করাও! রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন—আপনি কি অপরাধীদের পক্ষ নিচ্ছেন নাকি জনগণের? আপনার নীরবতা কি সম্মতি?
ময়মনসিংহ আজ ফুঁসে উঠেছে। এই প্রতিবাদ শুধু একটি শহরের নয়, এটি পুরো জাতির নিরাপত্তা সংকটের প্রতিচ্ছবি। এখনই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার—অপরাধের পক্ষে! না জনগণের পক্ষে!
প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট মোহাম্মদ সাঈদুল হক সাঈদ শাওন,সম্পাদক ও প্রকাশক : এফ এম আব্বাস উদ্দিন,
ঠিকানা : এ এস গন্ধী প্লাজা ৪র্থ তলা জেলা স্বরণী মোড়,কিশোরগঞ্জ।মোবাইল : ০৯৬৯৭৬৪৮০৩৫, ০৯৬৩৮৯২৩৫২৪,০১৬১৫৩১৮০৩৫ই-মেইল :
auchsangbad@gmail.com