শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া-পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি।
অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল ভাষা শহীদদের স্মরণ করছি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।ঋতুচক্র,বৃক্ষ,প্রজাপতি কিম্বা প্রেমিক ভ্রমর নিজেদের ভাষায় গায় অমর সঙ্গীত।সব নৃগোষ্ঠীর থাকে মমতায় মাখা মাতৃভাষা।কিন্তু রাষ্ট্রেরও কি ভাষা থাকে? হ্যাঁ, প্রথম আমরা সেই ভাষার শিখলাম তা হলো বাংলা ভাষা।রক্তাক্ত সিঁড়ি হলো ‘বায়ান্নোর একুশে ফেব্রুয়ারি।আমরা নিজেদেরকে চিনলাম, আমরা নিজেদেরকে বুঝলাম, আমরা নিজেদেরকে জানলাম, চিনে নিলাম আমাদের নিজস্ব পথ।রক্তের বর্ণমালায় সুশোভিত সে পথ ধরেই আমরা নিজেদের শেকড়ে পৌঁছালাম, আমাদের নিজের রাষ্ট্র হলো- বাংলাদেশ।
মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করা প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার। শিক্ষার মাধ্যম যে মাতৃভাষাই হওয়া উচিত এ ব্যাপারে আজ আর দ্বিমত নেই। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখে রফিক,সালাম,বরকত,জব্বার ছাড়াও অনেক নাম না জানা ছাত্ররা ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।আমরা বাঙালি জাতি।আমাদের মাতৃভাষা বাংলা।বাংলাভাষার মাধ্যমেই আমরা প্রথমে ‘মা’ নামক ছোট্ট শব্দটি শিখেছি।এ ভাষাতেই আমরা কথা বলি ও লিখন লিখি।এ ভাষাতেই অতি আপনজনের কাছে পত্র লিখে মনের ভাব প্রকাশ করি আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে আমরা যে কল্পনার ছবি আঁকি তা এই বাংলা ভাষাতেই। তাই এই ভাষায় শিক্ষা গ্রহণের মজাই আলাদা।সুতরাং অপর সব ভাষা অপেক্ষা মাতৃভাষা সকলের নিকট সুমধুর।
আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করায় এই দিবসটিতে বিশ্বের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব মাতৃভাষার চর্চা ও বিকাশ ঘটাতে অদম্য প্রেরণা লাভ করবে।মহান ২১শে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে আমি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের আয়োজিত নানাবিধ কর্মসূচির সাফল্য কামনা করছি।পরিশেষে আমি ৫২’র ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিতার কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি ভাষা সৈনিকদের জানাই শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন। তাঁদের পরিবারের সুখ,শান্তি ও দীর্ঘায়ূ কামনা করি।মহান শহিদ দিবস এবং আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলা ভাষাভাষীসহ বিশ্বের সকল ভাষা ও সংস্কৃতির জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট,মহান একুশে ফেব্রুয়ারী আমাদের শোক, শক্তি ও গৌরবের প্রতীক। ১৯৫২ সালের এ দিনে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে প্রাণ দিয়েছিলেন রফিক,শফিক,সালাম,বরকত ও জব্বারসহ আরও অনেকে।আমি সকল ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।বাংলা ভাষাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য দেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করে বিজাতীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে বাংলা ভাষাকে রক্ষা করার মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন সার্থক হবে।মহান একুশে ফেব্রুয়ারী বাঙ্গালি জাতির চির প্রেরণা ও অবিস্মরণীয় একটি দিন। ২১ ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস শুধু দেশেই সিমাবদ্ধ নই বরং বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। বায়ান্ন সালের একুশের রক্তাক্ত পথ ধরেই গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকারের সংগ্রামে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা।আমরা এমন এক সময়ে ২১ শে ফেব্রুয়ারী পালন করছি যখন দেশে গণতন্ত্র,আইনের শাসন, মানবাধিকার, ভোটাধিকার ও মত-প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতে প্রয়াস চলছে।ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এর সফলতা বয়ে আনতে হবে।সকল ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট মোহাম্মদ সাঈদুল হক সাঈদ শাওন,সম্পাদক ও প্রকাশক : এফ এম আব্বাস উদ্দিন,
ঠিকানা : এ এস গন্ধী প্লাজা ৪র্থ তলা জেলা স্বরণী মোড়,কিশোরগঞ্জ।মোবাইল : ০৯৬৯৭৬৪৮০৩৫, ০৯৬৩৮৯২৩৫২৪,০১৬১৫৩১৮০৩৫ই-মেইল :
auchsangbad@gmail.com