মোঃ নজরুল ইসলাম-কটিয়াদী কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জে কটিয়াদীতে ফেরিওয়ালা অহিদ মিয়া বাঁশি বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায় তার বয়স ৪৫ পেরিয়েছে।এ বয়সেও তৈরি করেন নানা প্রকারের বাঁশি। এসব বাঁশি বিভিন্ন জেলার হাট-বাজার,মেলায় ও রাস্তাঘাটে হেঁটে হেঁটে বাঁশি বাজিয়ে বিক্রি করেন তিনি। বলছি গাজীপুর জেলা কাপাসিয়া উপজেলার আড়ালিয়া গ্রামের বাঁশি পাগল মোঃঅহিদ মিয়া'র কথা।শহরের প্রধান সড়কটি এঁকেবেঁকে চলে গেছে।সে সড়ক দিয়ে একের পর এক ছুটে যাচ্ছে মোটরসাইকেল,ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিক্সা,বাস,ট্রাকসহ নানা যানবাহন।এসব বাহনের কর্কশ হর্ন আর টুংটাং শব্দের মধ্যেও পথচারীদের কানে এসে বাজছে বাঁশির মধুর সুর।সরেজমিনে দেখা যায় কটিয়াদীর বাসস্ট্যান্ডে রাস্তাঘাটে ও বাজারে বিভিন্ন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে বাঁশির সুর তুলছিলেন মোঃঅহিদ মিয়া।কাছে যেতেই থেমে গেল সুর।বললেন, ‘কারও মধ্যে বাঁশি কেনার কোনো আগ্রহ নাই।তাই আমার মনেও শান্তি নাই। মনে শান্তি না থাকলে বাঁশির সুর কি বের হয়?’মোঃঅহিদ মিয়া বয়স ৪৫ পেরিয়েছে।বাড়ি গাজীপুর জেলা কাপাসিয়া উপজেলা আড়ালিয়া গ্রামে। ১৫-২০বছর ধরে ফেরি করে বাঁশি বিক্রি করছেন তিনি।বাঁশি নিয়ে সপ্তাহখানেক পরপর কটিয়াদী আসেন।শহর,গ্রাম,পথে-প্রান্তরে ঘুরে সুর তুলে বিক্রি করেন বাঁশের বাঁশি।আকারভেদে প্রতিটি বাঁশি বিক্রি করেন ২০ থেকে ৮০ টাকায়।কীভাবে বাঁশি বাজাতে হয়,তা ক্রেতাকে সেটিও শিখিয়ে দেন তিনি।অহিদ বলেন,সারা বছরই বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বাঁশি বিক্রি করেন তিনি।সেই বা সেই থেকে সুরও আয়ত্ত করেছেন ১০০-২০০শ গানের সুর।পল্লিগীতি,ভাওয়াইয়া,লালনগীতি,বিচ্ছেদ,পুরোনো বাংলা ও হিন্দি সিনেমার গানের সুরও তুলতে পারেন তিনি।রোজগার কেমন জানতে চাইলে মোঃঅহিদ মিয়া উত্তর,এখন আর খুব একটা রোজগার নেই।বাজারে এখন সব জিনিসের দাম অনেক বেশি।যে মোটা চাল কয়েক দিন আগেও ৫৫ টাকা কেজি দরে কিনেছেন,সেই চাল এখন ৬৫ টাকারও বেশি।ডাল কিনতে গেলে তেল কেনার টাকা থাকে না,তেল কিনতে গেলে লবণ কেনা হয় না।মানুষের সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে গেছে।মানুষের মনে সে কারণে আগের মতো শান্তি নেই। আর মনে শান্তি না থাকলে শখের জিনিস কেনার আগ্রহ থাকে কী করে?মোঃঅহিদ মিয়া বাঁশি বিক্রিতে ভাটা পড়ে।মোঃঅহিদ মিয়া বললেন,আগে সুর শুনেই কত মানুষ শখ করে বাঁশি কিনে নিয়েছে।আর এখন যতই সুর তোলেন,তেমন কেউ বাঁশি কেনেন না।আগে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টাকার বাঁশি বিক্রি হতো।আর এখন দিনে ৩০০ টাকাও আয় হয় না।আবার যেটুকু আয় হয়,তার একটা অংশ গাড়িভাড়ার পেছনে চলে যায় বলে জানান মোঃঅহিদ মিয়া।তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিনই অভাব বাড়ছে।তারপরও কারও কাছে হাত পাতিনি।আমার চাহিদাও বেশি নাই।বাঁশি বিক্রি করে যা আয় হয়,তা দিয়েই জীবন চলে যাচ্ছে।বলতে বলতে বাঁশিতে সুর তুললেন, ‘ওরে নীল দরিয়া, আমায় দে রে, দে ছাড়িয়া।’ সুর থামিয়ে তিনি বললেন, ‘এবার তোমরাও হামাক ছাড়ে দাও। অন্য কোনোখানে গিয়ে দেখি বাঁশি বিক্রি করতে পারি কিনা। বাঁশি বিক্রি না হলে যে, আমাদের পেটে ভাত জুটবে না।’প্রতিদিনই দুপুরে বের হয় রাত্রে বাড়ি ফিরে যাই মোঃঅহিদ মিয়া।পরের দিন দুপুরে বাঁশির ঝোলা কাঁধে নিয়ে আবারও বেরিয়ে পড়েন। বাঁশিতে নতুন নতুন সুর তুলে মানুষকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে যান।
প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট মোহাম্মদ সাঈদুল হক সাঈদ শাওন,সম্পাদক ও প্রকাশক : এফ এম আব্বাস উদ্দিন,
ঠিকানা : এ এস গন্ধী প্লাজা ৪র্থ তলা জেলা স্বরণী মোড়,কিশোরগঞ্জ।মোবাইল : ০৯৬৯৭৬৪৮০৩৫, ০৯৬৩৮৯২৩৫২৪,০১৬১৫৩১৮০৩৫ই-মেইল :
auchsangbad@gmail.com